বৈশাখ মানেই এক অন্যরকম প্রাণের উচ্ছ্বাস। এসময় প্রকৃতি যেন নতুন করে শ্বাস নেয়। গ্রীষ্মের শুরুতে সূর্যের তাপ একটু তীব্র হলেও, তার মাঝেই লুকিয়ে থাকে অদ্ভুত এক সৌন্দর্য। আকাশে ভেসে বেড়ানো সাদা মেঘ, হঠাৎ করেই কালবৈশাখীর আগমন, আর তারপরের শীতল বাতাস – সব কিছুর মেলবন্ধনে বৈশাখের আবহাওয়া যেন নাটকের মতোই রং বদলে মেতে আছে।
এ সময়টাতে চারপাশে ফুটে ওঠে নানান রঙের ফুল: কৃষ্ণচূড়া, জারুল, সোনালী ও বাগানবিলাস।তাদের লাল কমলা রঙের সম্মিলনে প্রকৃতি যেন আপন সৌন্দর্যে মেতে ওঠেছে। বাতাসে মিশে থাকা ফুলের মৃদু সৌরভ, যা মনকে কোনো কারণ ছাড়াই পুলকিত করে দেয়। গাছপালার নিচে দাঁড়ালে সেই গন্ধ যেন হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়। ঠিক তেমনি, সেই ফুলের সৌরভের সম্মিলিনে মেতেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস আঙিনা । কেসিয়া যাবানিকা, বাগানবিলাস, জারুল, সোনালু ও কৃষ্ণচূড়ার রঙিন সাজে প্রকৃতির নান্দনিক সৌন্দর্যে মেতে আছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে ফুলের নান্দনিক সৌন্দর্যের ভুয়সী প্রশংসা করছেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। প্রত্যেকটা ঋতুই যেন এই ক্যাম্পাসে একেক রকমের নান্দনিকতা তৈরী করে।
নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া রহমান মলি বলেন যে গ্রীষ্মকালের এই যে তপ্ত দুপুরবেলা, ক্যাম্পাসে বিভিন্ন রকমের ফুল ফুটে উঠেছে: কৃষ্ণচূড়া, সোনালু ও জারুল এবং কেসিয়া জাবানিকা । বিভিন্ন রকমের ফুলের সম্মিলনে এক এক পাশে আমরা একরকম সৌন্দর্য দেখতে পাচ্ছি, মানে খুব সুন্দর লাগছে ক্যাম্পাসটা। সবাই আমাদের ক্যাম্পাসে আসছে, ছবি তুলছে এবং ঝড়ো বাতাস হচ্ছে, ফুলগুলো উড়ে বেড়াচ্ছে। ক্যাম্পাসে যেন অন্যরকম একটা অনুভূতি আমরা খুঁজে পাচ্ছি, সৌন্দর্য খুঁজে পাচ্ছি, দেখতে বেশ ভালো লাগছে, বিমোহিত হচ্ছি আমরা।
গনযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী আলভিন আইমান জানান যে ,কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক প্রতিশব্দ হচ্ছে এই ক্যাম্পাসের গ্রীষ্মের ফুলেরা। এই ফুলেরা যখন আগমন ঘটায় এই ক্যাম্পাসে, তখন এই ক্যাম্পাসের পরিবেশ থাকে এক আলাদা আবেগঘন কিংবা সৌন্দর্যের, সোজা কথায়, নান্দনিক এক মাত্রা যোগ করে। যা আমাদের মনকে পুলকিত করে।
পরিশেষে বলা যায় যে বৈশাখ শুধু ঋতুর পরিবর্তন নয়, এটা নতুন শুরুর প্রতীক। পুরনো ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে নতুন আসার ভর করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার এক নিশব্দ আহ্বান। তাই বৈশাখের এই গরম, ঝড় আর ফুলের ঘ্রাণ, সবকিছু মিলেই জীবনের এক সুন্দর ও প্রাণবন্ত রূপ, যা আমাদের হৃদয়কে এক নীরব প্রশান্তিতে ভরে তোলে। যে অপরূপ সৌন্দর্যের কথা কবি-শিল্পীরা তাদের কবিতায় এবং রং তুলির মাধ্যমে ফুটিয়ে তুলেছেন, সে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ছেয়ে আছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, যা অপরূপ সৌন্দর্যের এক নীরব বহিঃপ্রকাশ।
মোঃবিল্লাল হোসেন, কুবি প্রতিনিধি