কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানা সদরে অবস্থিত বাঙ্গরা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র চিকিৎসক সংকটসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মেডিক্যাল অফিসার না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। ফলে এলাকার প্রায় ৪০ হাজার মানুষ কাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯০০ সালে “শান্তি দাতব্য চিকিৎসালয়” নামে প্রতিষ্ঠিত হয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৮৭ সালে এটি বাঙ্গরা উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র হিসেবে পুনঃস্থাপিত হয়। প্রায় ১২৬ বছরের পুরোনো এই প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়দের চিকিৎসাসেবার অন্যতম ভরসা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
তবে দুঃখজনকভাবে, প্রায় এক দশকেরও বেশি সময় ধরে এখানে কোনো মেডিক্যাল অফিসার নেই। বর্তমানে মাত্র একজন উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসার ও একজন ফার্মাসিস্ট দিয়ে সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। জরুরি রোগীদের প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে হয়, যা সাধারণ মানুষের জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া, অবকাঠামোগত বড় সমস্যা না থাকলেও বাউন্ডারি দেয়াল না থাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। হাসপাতাল প্রাঙ্গণে ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং উন্মুক্তভাবে প্রস্রাব করার কারণে দুর্গন্ধ ছড়ায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর হাসপাতাল এলাকা মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ইকবাল হোসেন ও হারিছ মিয়া বলেন, দ্রুত একজন চিকিৎসক নিয়োগ দিলে এলাকার হাজারো মানুষ সহজে চিকিৎসাসেবা পেতেন। পাশাপাশি হাসপাতালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাউন্ডারি দেয়াল নির্মাণের দাবি জানান তারা।
উপসহকারী মেডিক্যাল অফিসার আক্তার হোসেন বলেন, “চিকিৎসক না থাকায় সীমিত জনবল নিয়ে সেবা দিতে হচ্ছে। একজন ডাক্তার নিয়োগ হলে এলাকার মানুষ আরও উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবে।”
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নুসরাত জাহান বলেন, “চিকিৎসক সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা চলছে।”
মোঃ ইব্রাহিম, মুরাদনগর