ঈদে পছন্দের রঙিন জামা মুখে ফুটায় অনাবিল হাসি।সে হাসি ক্রয় করা সমাজে অনেক পরিবারেরই সামর্থ হয়না।অর্থের অভাব যেনো অনেক শিশুর আনন্দকে চাপা কষ্টে ভাসিয়ে রাখে। এমন অর্ধশত শিশুর মুখে ঈদের হাসি ফুটাতে এবং সকল শিশুর মত সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয় তাদের মুখে হাসি ফুটানোর লক্ষ্যে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার ৪নং দক্ষিণ খোশবাস ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের হোসেনপুর গ্রামে অবস্থিত 'মানুষ' সংগঠন নিজেদের প্রায় ৫৪জন শিশু শিক্ষার্থীর মাঝে ১৮মার্চ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় রঙিন জামা উপহার দেন।এসময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট লিডিং ইউনিভার্সিটির এসোসিয়েট প্রফেসর মো.কাজি জাহিদ হাসান,সহকারি অধ্যাপক হোসাইন আবেদিন,শশইয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসা,
এমদাদুল ক রিপন,ফাস্ট এক্সকিউটিভ অফিসার ন্যাশনাল ব্যাংক এবং উক্ত প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ।
শিশু শিক্ষার্থী মিনহাজ,নুসরাত,জান্নাত বলেন আমরা নতুন জামা পেয়ে খুব খুশি।আমরা প্রতি বছর নতুন জামা পেয়ে থাকি।এবছরও নতুন জামা পেয়ে আমরা খুব খুশি।
অভিভাবক হাজেরা,হাছনা আক্তার বলেন এ সংগঠনে আমার বাচ্চারা পড়ে।এখানে শিক্ষার সকল উপকরণ নিয়মিত পাই এবং প্রতি বছর তাদের নতুন জামা ও মিষ্টান্ন উপহার দেওয়া হয়।আমাদের গ্রামের দরিদ্র পরিবারের সন্তানদের জন্য এ বড় পাওয়া।এমন খারাপ সময় আমাদের আসে সন্তানকে একটি নতুন জামা কিনে দেওয়ার সামর্থ্য থাকে না। 'মানুষ' সংগঠন শিক্ষা বিস্তারে
ও শিশুদের মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছে।
হোসেনপুর গ্রামের বাসিন্দা ব্যাংক কর্মকর্তা এমদাদুল হক রিপন ও শশইয়া ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার সহকারি অধ্যাপক এ কে এম হোসাইন আবেদীন জানান,মানুষ সংগঠনের কার্যক্রম প্রায় ১যুগ ধরেই দেখছি।মানুষকে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে এ সংগঠন আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে।এ শিশুদের হাতে নতুন জামা পাওয়ার উচ্ছ্বাস তাদের চোখে-মুখে যেনো খুশির বন্যা সৃষ্টি করেছে।সত্যিই তা হৃদয়স্পর্শ করার মতো।
সিলেট লিডিং ইউনিভার্সিটির সিএসসি বিভাগের চেয়ারম্যান,এসোসিয়েট প্রফেসর, কাজী জাহিদ হাসান বলেন,আমি মানুষ সংগঠনের কাজ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব সময় দেখি।তাদের এ ভালো কাজ আমাকে আপ্লুত করে। আমাদের প্রতিটি সমাজে এমন সংগঠন খুব দরকার।মানুষ মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে রঙিন জামা দেওয়ার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমি এ কাজে থাকতে পেরে ভালো লেগেছে।
সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা মো.ইলিয়াছ হোসাইন বলেন, 'মানুষ' সংগঠনটি ২০১৩সালের ২০সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠাকালীন সময় থেকে ধারাবাহিকভাবে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষামুখী করার লক্ষ্যে সুদৃঢ় কাজ করে যাচ্ছে।প্রতিদিন প্রতিষ্ঠানটি বিকেল ৩-৫টা পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠদানের পাশাপাশি রমজানে প্রতি ঈদে শিশুদের নতুন জামা, মেহেদী উৎসব ও ইফতার আয়োজন সহ শিশুদের মনাকার্ষণ করে এমন নানানরূপী কাজ করে থাকেন।আমাদের প্রতিষ্ঠানটি কিছু ভালো মানুষের অর্থ সহযোগিতায় পরিচালিত হয়।
নিজস্ব প্রতিবেদক