কুমিল্লার চান্দিনায় গভীর রাতে স্বামীর সামনে স্ত্রীকে তুলে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৩ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার মাইজখার ইউনিয়নের কামারখোলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আটককৃতরা হলেন- কামারখোলা গ্রামের আলমগীরের ছেলে মেহেদী হাসান তারেক (২৪), আলমাছ মিয়ার ছেলে মো. আরিফ (৩৪), জয়নাল আবেদীনের ছেলে মো. ইসমাইলসহ (৩৭) আরও একজন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরুড়া সদরের এক দম্পতি রাত ৯টার দিকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে চান্দিনার মাদারপুর গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। রাত ১০টার দিকে কামারখোলা এলাকায় পৌঁছালে অটোরিকশার ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যায়। পরে তারা অটোরিকশা ঠেলে গন্তব্যের দিকে রওনা হন।
এ সময় মোটরসাইকেলে আসা তিন যুবক তাদের পথরোধ করে। একপর্যায়ে তারা আরও দুজনকে ডেকে আনে। পরে সংঘবদ্ধ ওই দলটি স্বামীকে জোরপূর্বক আলাদা করে ফেলে এবং তার সামনেই স্ত্রীকে টেনে-হিঁচড়ে পাশের একটি ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, হামলাকারীরা তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে দূরে সরিয়ে দেয়। পরে তিনি জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তার স্ত্রীকে উদ্ধার করে।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করে বলেন, তাকে জোরপূর্বক ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। তিনি প্রাণভিক্ষা চেয়ে কান্নাকাটি করলেও হামলাকারীরা কর্ণপাত করেনি।
চান্দিনা থানার অফিসার ইন-চার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ঘটনায় পাঁচজন জড়িত থাকার প্রাথমিক তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দুজন সরাসরি ধর্ষণে অংশ নেয় এবং বাকিরা সহযোগিতা করে। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করেছে। পলাতক অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। তাকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
নেকবর হোসেন