কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের ৯জন চিকিৎসক ঢাকা ও কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে সংযুক্ত রয়েছেন। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলার ৫লাখের বেশি মানুষ।
সূত্রমতে, উপেজলায় চিকিৎসকের মোট পদ ৪৭ জন। ১২ টি পদ শূন্য। সংযুক্ত রয়েছেন ৯ জন। কর্মরত আছেন-২৬ জন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জোড্ডার গোহারুয়া ২০ শয্যা হাসপাতাল এবং ২টি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ৯জন চিকিৎসক বছরের পর বছর মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, শহীদ সোহরাওয়ার্দী, নিটোর আই. সি. ইউ, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন হাসপাতাল ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে সংযুক্ত থাকায় নাঙ্গলকোটবাসী স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এর মধ্যে ২জন জুনিয়র কনসালটেন্ট (অ্যানেসথেসিয়া) ঢাকার নিটোর আই. সি. ইউ বিভাগ এবং সোনাইমুড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সংযুক্ত থাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গর্ভবতীদের সিজারিয়ান অপারেশনসহ ছোট অপারেশন বন্ধ রয়েছে।
নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ জয়নুল আবেদীন গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা সিভিল সার্জন বরাবরে উপজেলায় চিকিৎসক সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সংযুক্তি আদেশ বাতিলের অনুরোে করে চিঠি দিয়েছেন।
বাঙ্গড্ডা ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে আসা দৌলতপুর গ্রামের ছালেহা বেগম বলেন, বাঙ্গড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে একজন মেডিকেল অফিসার থাকার কথা শুনলেও কখনো এখানে মেডিকেল অফিসারকে বসতে দেখিনি।
নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে আসা আফসানা আক্তার বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অপারেশনের ব্যবস্থা থাকলেও অ্যানেসথেসিয়া ডাক্তার না থাকায় বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে না।
কুমিল্লা জেলা সিভিল সার্জন, ডাঃ আলী নুর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ বলেন, নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, গোহারুয়া ২০শয্যা হাসপাতাল এবং দু‘টি ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত চিকিৎসকরা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে সংযুক্ত থাকায় এলাকাবাসীর স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত হচ্ছে। তাই তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে অবহিত করেছি।
নিজস্ব প্রতিবেদক