কুমিল্লা | বঙ্গাব্দ

দুইশত বছরের পুরানো মন্দির ভাঙচুরের প্রতিবাদে মানববন্ধন

  • প্রকাশের তারিখ : 16-জানুয়ারী-2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় প্রায় ২০০ বছরের পুরনো মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় সনাতনী লোকজন। তারা বলেন, “আমরা শান্তি চাই, কোনো দাঙ্গা নয়। আমাদের মন্দিরের পূর্ণপ্রতিষ্ঠা চাই।”

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) দুপুরে  উপজেলার দক্ষিণ খোশবাস ইউনিয়নের চালিয়া গ্রামে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, গত ১৩ জানুয়ারি গভীর রাতে চালিয়া গ্রামের কালীমন্দির, শীতলামন্দির ও দোলমন্দিরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয়। এতে দোলমন্দিরটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং কালীমন্দিরের পেছনের অংশ খনন করায় মন্দিরটি বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা রবীন্দ্র ভক্ত বলেন, “প্রায় দুই শতাব্দী ধরে এখানে পাশাপাশি কালীমন্দির, শীতলামন্দির ও দোলমন্দির ছিল। গ্রামের জীবন বাবু বহু বছর আগে মন্দির ও রাস্তার জন্য প্রায় ছয় শতক জমি দান করেছিলেন। কিন্তু পাশের জমি ক্রয়ের পর থেকেই মন্দির সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। একাধিকবার শালিস হলেও কোনো সমাধান হয়নি। শেষ পর্যন্ত রাতের আঁধারে দোলমন্দির ধ্বংস করা হয়েছে। আমাদের গ্রামে কখনো সাম্প্রদায়িক বিভেদ ছিল না”

স্থানীয় বাসিন্দা জিয়াউর রহমান বলেন, “আমি ছোটবেলা থেকেই দেখছি এখানে হিন্দু ভাইয়েরা শান্তিপূর্ণভাবে পূজা-অর্চনা করে আসছেন। আমাদের গ্রামে কখনো সাম্প্রদায়িক বিভেদ ছিল না। অন্যায়ভাবে মন্দির ভাঙার ঘটনায় আমি তীব্র নিন্দা জানাই।”

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে পলাশ ভক্ত বলেন, “আমরা কোনো সংঘাত চাই না। আমরা শান্তিতে একসাথে বসবাস করতে চাই। আমাদের একটাই দাবি—মন্দিরগুলো আগের জায়গায় পুনর্নির্মাণ করে দেওয়া হোক।”

ঘটনায় উত্তেজনা ছড়ালে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এদিকে ঘটনার পর গত ১৩ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বরুড়া থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে কুমিল্লা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

মন্দির ভাঙচুরের ঘটনায় চালিয়া শীল বাড়ির বাসিন্দা অশ্বিনী চন্দ্র শীলের ছেলে সঞ্চিত শীল ঘটনার রাতে বরুড়া থানায় মামলা করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে মূল অভিযুক্ত আবদুল্যাহ আল ফাহিমকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করেছে।

এ বিষয়ে বরুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি আজহারুল ইসলাম) বলেন, ঘটনার পরপরই পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করে কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।  আমরা আইনগতভাবে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নেওয়া হয়েছে।

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ