দীর্ঘ ৩১ বছর চাকরি জীবনের পর কুমিল্লা জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মহালক্ষীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক বেগম লায়লা নূরকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও বিদায়ী সংবর্ধনা দেওয়ার পর ছাদখোলা গাড়িতে করে বাড়িতে পৌঁছে দেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীরা। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে বিদায় আয়োজন করে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, এলাকাবাসী ও সাবেক ছাত্রছাত্রীবৃন্দরা। মহালক্ষীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক বেগম লায়লা নূর এর অবসর যেন হয়ে উঠেছে শিক্ষাঙ্গণের এক স্বর্ণালী অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি। শিক্ষকতা জীবনের দীর্ঘ ৩১ বছর পূর্ণ করে বিদায়ের মুহূর্তে তিনি শুধু একজন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন প্রজন্মের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতীক। তাকে বিদায় জানাতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হয়েছিল প্রাক্তন, বর্তমান শিক্ষার্থী, সহকর্মী, অভিভাবকেরা। প্রিয় শিক্ষককে ঘিরে এক আবেগময় পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এরকম রাজকীয় বিদায় শুধু একটি বিদ্যালয়ের ইতিহাস নয়, এ অঞ্চলের শিক্ষাঙ্গণের জন্যও এক গৌরবময় দিন। আজকের এই আবেগঘন বিদায় প্রমাণ করে, একজন প্রকৃত শিক্ষক কতটা ভালোবাসা ও সম্মানের স্থান দখল করতে পারেন মানুষের হৃদয়ে। বিদায়ী শিক্ষক বেগম লায়লা নূর বলেন, এটাই আমার গ্রাম। এটাই আমার প্রতিষ্ঠান। আজ চলে যাচ্ছি প্রিয় জায়গা ছেড়ে। এরকম বিদায় আমাকে আপ্লুত করেছে, অভিভূত করেছে। সবার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা পেয়েই আজকের এই দিন সম্ভব হয়েছে। অনুষ্ঠান শেষে বিদায়ী শিক্ষককে ছাঁদখোলা গাড়িতে চড়ে নিজ গ্রামে পৌঁছে দিয়ে আসেন বিদ্যালয়ের সহকর্মীরা। এ সময় গ্রামজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। শিক্ষার্থীদের চোখের পানি আর মানুষের আবেগ মিলে যেন এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি হয়েছিল। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অত্র বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শারমিন আক্তার। পবিত্র কোরআন পাঠ করেন ৫ম শ্রেণীর ছাত্র রিফাত মোল্লা। এতে সাবেক ইউপি সদস্য শাহজাহান সরকার এর সভাপতিত্বে ও নাজমুল হাছান এর পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন আব্দুর রাজ্জাক সরকার, কাজী মোবারক, প্রভাষক ইউনুছ সরকার, শফিকুল ইসলাম, মাসেকুল ইসলাম রোমান, এম. হাছান, ডাঃ শরিফুল ইসলাম, মো. আনোয়ার হোসেন, শামসুল সরকার, আলম সরকার, মালেক মেম্বার, মাহমুদা খানম, জাকিয়া পারভীন। সবশেষে দোয়া ও মোনাজাত করেন আবেদীয়া দরবার শরীফের পীর মাওলানা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।
মোঃ হাবিবুর রহমান সোহেল