কুমিল্লার বুড়িচংয়ে একসময় শীতের আগমনী বার্তায় গ্রামবাংলার অলিগলি মুখরিত হয়ে উঠত খেজুর রসের মিষ্টি ঘ্রাণে। রাস্তার দুই পাশ জুড়ে সারি সারি খেজুর গাছে ঝুলে থাকত রসের হাঁড়ি। পিঠা-পুলি, পায়েস -সব মিলিয়ে উৎসবের আমেজে শীত ছিল আরও প্রাণবন্ত।
অথচ আধুনিকতার স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে সেই ঐতিহ্য; কমে যাচ্ছে খেজুর গাছ, মিলছে না দক্ষ গাছিয়া—ফলে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী এই খেজুর রস।
উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে এখন আর আগের মতো খেজুর গাছ চোখে পড়ে না।
যেসব স্থানে একসময় রাস্তার দুই পাশে সারি সারি গাছ ছিল, এখন সেখানে অল্প কিছু গাছ টিকে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব গাছেও আর তেমন রস হয় না।
শীতের শুরুতেই গাছিয়ারা খেজুর গাছ ছাঁটাই ও কাটার মাধ্যমে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি নেন। গাছের মাথা পরিষ্কার করে বাঁশের কঞ্চি দিয়ে তৈরি খিল বা চুঙ্গি গেঁথে তার নিচে ঝুলিয়ে দেওয়া হয় মাটির হাঁড়ি বা প্লাস্টিকের বোতল।
কুয়াশা ভেজা ঠান্ডা রাতে টপটপ করে ঝরে রস জমা হয় হাঁড়িতে। ভোরে গাছিয়ারা কলস নিয়ে রস সংগ্রহ করে কোসায় বা পাতিলে জ্বাল দিয়ে গুড় তৈরি করেন। কিছু রস তাজা অবস্থায়ও বাজারে বিক্রি হয়।
শীতের কুয়াশাচ্ছন্ন সকাল খেজুর রস সংগ্রহের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। রস তখন সুস্বাদু, সুগন্ধী ও নির্মল থাকে। সেই রস ভোরে গৃহস্থালির রান্নাঘরকে ভরিয়ে তুলত মিঠে গন্ধে—যা গ্রামজীবনের চিরচেনা দৃশ্য ছিল। কিন্তু আজ তা কেবল স্মৃতির রোমন্থন।
ভারেল্লা উঃ ইউনিয়নের কুসুমপুর গ্রামের সফিক মিয়া বলেন, এই বছর ১৮-২০টি গাছে রস সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছি। আশা করছি ১০-১২ দিনের মধ্যে রস পাওয়া যাবে।
পীরযাত্রাপুর ইউনিয়নের গোবিনপুর গ্রামের আলী হোসেন জানান, ৬ টি গাছ পরিষ্কার করেছি—আগামী সপ্তাহেই রস নামবে।
গাছিয়া সুমন খান বলেন, “প্রতি বছরই রস সংগ্রহ করি। নিজের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করলে ভালো লাভ হয়।
ষোলনল ইউনিয়নের জসিম উদ্দিন জানান, “বাজার থেকে রস কিনে পরিবারের সবাইকে নিয়ে পিঠা-পায়েস তৈরি করি। সব বয়সের মানুষের জন্যই এটা দারুণ লোভনীয় খাবার।
মোঃ আবদুল্লাহ, বুড়িচং