তৌহিদ হোসেন সরকার।।
সমাজে কিছু মানুষ আছেন যাদের উপস্থিতি শুধু দায়িত্ব বা পদবীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না—তারা হয়ে ওঠেন আলোর দিশারী। কুমিল্লার রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক অঙ্গনে এমনই এক পরিচিত নাম অধ্যাপক এ কে এম এমদাদুল হক মামুন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুমিল্লা মহানগরীর নায়েবে আমীর এবং ইনসাফ হাউজিং এন্ড ডেভেলাপার্স প্রাঃ লিমিটেড-এর সম্মানিত চেয়ারম্যান। দায়িত্ব ও ব্যস্ততার ভিড়েও মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তার জীবনের মূল অঙ্গীকার।
সম্প্রতি তিনি মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কুমিল্লা ডিগ্রী কলেজ রোড, কালিকাপুর নিবাসী মরহুম তোতা মিয়ার ছেলে মোঃ সোহেলকে তিনি উপহার দেন একটি নতুন মিশুক (অটোরিকশা)। সোহেল একজন সংগ্রামী মানুষ। বাবা মারা যাওয়ার পর থেকে সংসারের ভার সামলাতে গিয়ে পড়েন চরম অসহায় পরিস্থিতিতে। তিন কন্যার জনক সোহেল সন্তানের পড়াশোনা থেমে যেতে দেননি। বড় মেয়ে পড়ছে ভিক্টোরিয়া কলেজে, দ্বিতীয়জন রেলওয়ে স্কুলে, আর ছোট সন্তান এখনো শিশু। সীমাহীন অভাব-অনটনের মাঝেও শিক্ষার প্রতি তার দৃঢ় মনোবল ছিল অটুট।
অধ্যাপক এমদাদুল হক মামুন এর এই উদ্যোগ শুধু একটি মিশুক উপহার নয়—এটি এক অসহায় পরিবারের জীবনে আশার আলো। সোহেল আনন্দে আবেগে বলেন, “আজ থেকে আমার সংসারের হাল কিছুটা হলেও বদলাবে। আমি পরিশ্রম করব, কিন্তু সন্তানদের লেখাপড়া বন্ধ করবো না।”
এই মহতী উদ্যোগে আরও উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মহানগরীর যুব বিভাগের সভাপতি কাজী নজির আহমেদ, ইনসাফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক অধ্যাপক আক্তার হোসেন, যুবনেতা অধ্যক্ষ সাইফুল ইসলাম ও মাহফুজুল হক, জামায়াতে ইসলামী ৩ নং ওয়ার্ড শুরা সদস্য মোঃ আবু জাহিদ এবং জনতা মিশুক বাজারের স্বত্বাধিকারী মেহেদি হাসান চৌধুরী।
অধ্যাপক মামুন বিশ্বাস করেন - অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত রাজনীতি। তার ভাষায়, “মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের মাধ্যমে সমাজে প্রকৃত পরিবর্তন আনা যায়। রাজনীতি কেবল ক্ষমতার জন্য নয়, মানবতার জন্যও।”
কুমিল্লা গেজেট