কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম সীমান্তে অভিযান চালিয়ে চার কেজি ভারতীয় গাঁজাসহ পেয়ারা আহমেদ (২৬) নামে এক মাদক কারবারিকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় তার সহযোগী মো. লোকমান (২৮) পালিয়ে যান।
বুধবার (১৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার রাজেন্দ্রপুর সীমান্ত এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। এ ঘটনায় চৌদ্দগ্রাম শিবের বাজার বিজিবি ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার মো. আব্দুল কালাম বাদী হয়ে রাতে চৌদ্দগ্রাম মডেল থানায় মামলা করেন।
আটক পেয়ারা আহমেদ উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের চকলক্ষ্মীপুর গ্রামের আব্দুল ছাত্তারের ছেলে। পলাতক লোকমান একই গ্রামের মৃত আতর আলীর ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেলে বিজিবির সদস্যরা নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, রাজেন্দ্রপুর সীমান্তের মেইন পিলার ২০৯৬ দিয়ে দুই ব্যক্তি ভারত থেকে গাঁজা নিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছেন। পরে বিজিবির একটি দল মেইন পিলার থেকে প্রায় ৭০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবস্থান নেয়।
একপর্যায়ে নীল রঙের পলিথিনে মোড়ানো একটি পোটলা হাতে একজনকে এবং তার সঙ্গে আরও একজনকে আসতে দেখেন বিজিবি সদস্যরা। বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় বিজিবি সদস্যরা ধাওয়া করে পেয়ারা আহমেদকে আটক করতে সক্ষম হন। তবে তার সহযোগী লোকমান পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয় সাক্ষীদের উপস্থিতিতে পেয়ারা আহমেদের হাতে থাকা নীল পলিথিনে মোড়ানো পোটলাটি তল্লাশি করে চার কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়। বিজিবির হিসাব অনুযায়ী, উদ্ধার করা গাঁজার আনুমানিক বাজারমূল্য ১৪ হাজার টাকা।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পেয়ারা আহমেদ তার সহযোগী হিসেবে লোকমানের নাম ও ঠিকানা জানান। ভারতীয় সীমান্ত এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে অধিক দামে বিক্রির উদ্দেশ্যে তারা তা নিজেদের হেফাজতে রেখেছিলেন বলে বিজিবিকে জানান তিনি।
এদিকে, চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রায়হান জানান, গত ১৭ আগস্ট সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চকলক্ষ্মীপুর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১২ কেজি ভারতীয় গাঁজাসহ চরলক্ষ্মীপুর এলাকার কাঠালিয়া গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে হৃদয়কে আটক করা হয়। এ সময় পেয়ারা ও জাহাঙ্গীর পালিয়ে যান।
চৌদ্দগ্রাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফ হোছাইন বলেন, “বিজিবি একজন আসামিকে গাঁজাসহ থানায় সোপর্দ করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে এবং তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এজাহারে আরও একজনের নাম রয়েছে। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।”
চৌদ্দগ্রাম প্রতিনিধি