কুমিল্লা | বঙ্গাব্দ
‘জুলাইয়ের গাদ্দারদের বিচার নিশ্চিত করুন’: কুবি শিবির সভাপতি
‘জুলাইয়ের গাদ্দারদের বিচার নিশ্চিত করুন’: কুবি শিবির সভাপতি
0:00
0:00

‘জুলাইয়ের গাদ্দারদের বিচার নিশ্চিত করুন’: কুবি শিবির সভাপতি

ছবির ক্যাপশন:

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে জড়িত হামলাকারী ও তাদের সহযোগীদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (কুবি) শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোজাম্মেল হোসেন আবির।

রোববার (১২ জুলাই) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চে ‘প্রতিরোধ দিবস’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মোজাম্মেল হোসেন আবির বলেন, “১১ জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক গৌরবময় ও বেদনাবিধুর দিন। এই দিন আমাদের শেখায়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হলে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। আমরা শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র শহীদ আব্দুল কাইয়ুমসহ সকল শহীদকে।”

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ১১ জুলাইকে ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় তাদের ধন্যবাদ জানাই। তবে শুধু স্মৃতিচারণ নয়, জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করে বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে কাজ করতে হবে।

দুই বছর আগে ১১ জুলাই আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে ছাত্রশিবির সভাপতি বলেন, “কিছু সাবেক শিক্ষার্থী এবং তৎকালীন স্বৈরাচার-সমর্থিত প্রশাসনের সহযোগিতায় পুলিশের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা হয়েছিল। কিন্তু দুই বছর পেরিয়ে গেলেও সেই ঘটনার বিচার হয়নি। জুলাইয়ের গাদ্দার এবং শিক্ষার্থীদের রক্তাক্ত করা সন্ত্রাসীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যার কথাও তুলে ধরে আবির বলেন, দীর্ঘদিন ধরেও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে রয়েছেন পরিবহন সংকটে। বিআরটিসির পুরোনো ও ফিটনেসবিহীন বাসে নিয়মিত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। এ সমস্যা দ্রুত সমাধানে উপাচার্যের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এ সময় তিনি নিরাপদ, সহমর্মিতাপূর্ণ ও সহাবস্থানভিত্তিক ক্যাম্পাস নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি আবাসিক হলের সিট বণ্টনে সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এবং রাজনৈতিক বিবেচনার পরিবর্তে স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে আসন বরাদ্দের দাবি জানান।

এছাড়াও শিক্ষার্থীদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য দ্রুত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (কুকসু) নির্বাচন আয়োজন করা প্রয়োজন। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম। মুখ্য আলোচক হিসেবে ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের সদস্য ড. চৌধুরী সায়মা ফেরদৌস।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাসুদা কামাল এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘প্রতিরোধ দিবস’ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার।

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ