কুমিল্লা | বঙ্গাব্দ
ভূমি অফিসের নাম ভাঙিয়ে লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, থানায় জিডি
ভূমি অফিসের নাম ভাঙিয়ে লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, থানায় জিডি
0:00
0:00

ভূমি অফিসের নাম ভাঙিয়ে লাখ টাকা দাবির অভিযোগ, থানায় জিডি

ছবির ক্যাপশন:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে নামজারি (খারিজ) ও জমাখারিজের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি ভূমি সেবার নামে একটি প্রতারক চক্র সেবাগ্রহীতাদের বিভ্রান্ত করে কোথাও কোথাও লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করছে বলে অভিযোগ করেছে উপজেলা ভূমি অফিস। এ ঘটনায় ভূমি অফিসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ায় এবং সেবার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় গত বুধবার বাঞ্ছারামপুর মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সরকারি নিয়ম ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী নামজারি ও জমাখারিজের সম্পূর্ণ কার্যক্রম বর্তমানে অনলাইনের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। এ ক্ষেত্রে আবেদন ফি ৭০ টাকা এবং নামজারি অনুমোদন ফি ১১০০ টাকা, অর্থাৎ মোট সরকারি ফি মাত্র ১১৭০ টাকা। সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে কোনো ধরনের নগদ অর্থ লেনদেনের সুযোগ বা প্রয়োজন নেই।

কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন ইউনিয়নে সক্রিয় একটি দালাল ও প্রতারক চক্র উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নাম ব্যবহার করে দ্রুত নামজারি করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে। এমনকি কোথাও কোথাও লাখ টাকা পর্যন্ত দাবি করার অভিযোগও পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বাঞ্ছারামপুর পৌর প্রশাসক মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়া বলেন, “বাঞ্ছারামপুর উপজেলা ভূমি অফিস শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে নাগরিকদের ভূমি সেবা দিয়ে যাচ্ছে। নামজারির ক্ষেত্রে সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত একটি টাকাও দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কেউ ভূমি অফিসের নাম ব্যবহার করে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করলে বিষয়টি দ্রুত সহকারী কমিশনার (ভূমি) অথবা উপজেলা ভূমি অফিসকে জানান।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতারকদের সঙ্গে ভূমি অফিসের কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতা নেই। তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় কাজ চলছে। ভূমি সেবা নিশ্চিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং প্রতারকদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”

এদিকে জমির খারিজ করতে আসা একাধিক সেবাগ্রহীতা গণমাধ্যমে কথা বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তবে বাঞ্ছারামপুর পৌর এলাকার কৃষক মো. আজাদ মিয়া জানান, তিনি সরকারি নির্ধারিত ১১৭০ টাকা পরিশোধ করেই নামজারির কাজ সম্পন্ন করেছেন।

উপজেলা ভূমি অফিস সাধারণ মানুষকে কোনো দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগীর মাধ্যমে আর্থিক লেনদেন না করে সরাসরি সরকারি নিয়ম অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে কেউ ভূমি অফিসের পরিচয়ে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করলে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ