মোঃ আবদুল্লাহ।।
সাংবাদিক তুহিনের নির্মম হত্যাকাণ্ড দেশের গণমাধ্যম ও সাংবাদিক সমাজের হৃদয়ে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, তুহিন একটি নারীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিবাদের ভিডিও ধারণ করছিলেন। সন্ত্রাসীরা ভিডিও মুছে ফেলতে চাপ দিলে তিনি অস্বীকৃতি জানান। সেই অস্বীকৃতির মূল্য তাঁকে জীবন দিয়ে দিতে হয়। ধারালো অস্ত্রের কোপে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন তুহিন।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করলেও, এ ধরনের হত্যাকাণ্ড এখন যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। কলমধারীদের ওপর হামলা, হত্যাকাণ্ড ও নিখোঁজের ঘটনা দেশে ক্রমেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। কিন্তু বছরের পর বছর এই মামলাগুলো বিচারহীন থেকে যাওয়ায় অপরাধীরা হয়ে উঠছে আরও বেপরোয়া।
আন্তর্জাতিক সংস্থা কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (CPJ) জানায়, বাংলাদেশে সাংবাদিক হত্যা ও হামলার অধিকাংশ মামলাই বিচারহীন থাকে। সাংবাদিক সমাজ বহুবার দাবি জানিয়েছে, তাদের জন্য পৃথক সাংবাদিক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন করা হোক, যেখানে স্বাধীন সাংবাদিকতার সুরক্ষা, দ্রুত তদন্ত ও বিচারের বিশেষ কাঠামো থাকবে।
কিন্তু বাস্তবতা হলো, সংসদে আইন প্রণয়নের উদ্যোগ কেবল আলোচনার টেবিলেই সীমাবদ্ধ। রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাব, পেশাজীবী সংগঠনগুলোর বিভাজন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের প্রবণতার কারণে বিলম্ব হচ্ছে এ বিষয়ে।
২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনির হত্যাকাণ্ডের ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো বিচার হয়নি। এতে প্রমাণ হয়, কেবল শোক ও নিন্দা প্রকাশে সমস্যার সমাধান হয় না; প্রয়োজন দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তির নিশ্চয়তা।
সচেতন মহল ও সাংবাদিক সমাজের প্রশ্ন—আর কত লাশ গুনবে তারা? আর কত মায়ের বুক ভাঙবে, বাবার চোখে অশ্রু ঝরবে, সহকর্মীরা কালো ব্যাজ পরে শোক জানাবে? প্রতিবার প্রশাসন আশ্বাস দেয়, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মামলার ফাইল ধূলিসাৎ হয়ে যায়, অপরাধীরা ফিরে যায় আগের আস্তানায়।
তাদের মতে, এখন সময় কেবল শোক প্রকাশের নয়—সময় সাংবাদিক নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের, দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষা প্রদানের। রাষ্ট্র যদি এই দায়িত্বে ব্যর্থ হয়, তাহলে শুধু গণমাধ্যম নয়, পুরো গণতন্ত্রই হুমকির মুখে পড়বে।
কুমিল্লা গেজেট