কুমিল্লা | বঙ্গাব্দ

পলাতক আসামিদের হু'মকিতে নি'রাপ'ত্তাহীন ভুক্তভোগী শুভ্র

  • প্রকাশের তারিখ : 30-মে-2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:

কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় দায়ের করা একাধিক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীকে হুমকি, চাঁদাবাজি, অপহরণের চেষ্টা এবং সাইবার হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। মামলার বাদী পেশাজীবী ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমকর্মী মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র দাবি করেছেন, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থেকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র বলেন, তাঁর দায়ের করা জি আর মামলা নং ৪১(৮৫০)/২৪-এ আদালত নামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। একই সঙ্গে বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা না দেওয়া এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়। তবে অভিযুক্তরা ওই নির্দেশ অমান্য করে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে লক্ষ্য করে বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্তরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, মানহানিকর তথ্য প্রচার, সাইবার হয়রানি এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর বাসার সামনে কাফনের কাপড় রেখে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং সংবাদ প্রকাশ বন্ধ না করলে প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্রের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে তাঁর মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট হ্যাকের চেষ্টা, তথ্য পাচার এবং বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর ঘটনাও ঘটেছে। এসব বিষয়ে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ করেছেন এবং কিছু আলামত তদন্তের জন্য সিআইডিতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান।

তিনি বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দস্যুতা-সংক্রান্ত আরেকটি মামলা (এফআইআর-৫১, জি আর-৮১২) এবং সম্প্রতি দায়ের করা একটি সিআর মামলা (নং-৬১৫/২৬)-ও বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় দ্রুত তদন্ত ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান তিনি।

মওদুদ আব্দুল্লাহ শুভ্র আরও বলেন, ধারাবাহিক এসব ঘটনার কারণে তাঁর ব্যক্তিগত ও পেশাগতভাবে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদ আনোয়ার বলেন, “পুলিশ হেডকোয়ার্টারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর তদন্তও চলমান রয়েছে।”

তবে ভুক্তভোগীর দাবি, এখনো পর্যন্ত মামলাগুলোর দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হলে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে।

এদিকে, স্থানীয় সচেতন মহলের কয়েকজন প্রতিনিধি বলেন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সত্ত্বেও আসামিদের দীর্ঘদিন পলাতক থাকা এবং ভুক্তভোগীর অভিযোগ অনুযায়ী অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকার বিষয়টি উদ্বেগজনক। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, অভিযোগগুলো বাদীর বক্তব্যের ভিত্তিতে তুলে ধরা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ