কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বন্ধুদের সাথে সাঁতার কেটে ডাকাতিয়া নদী পার হতে গিয়ে নদীর স্রোতে তলিয়ে যাওয়া বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল ও কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ শিহাবের (১৮) মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। নিখোঁজের ১৮ ঘণ্টা পর শনিবার সকাল সোয়া ৭টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিহাব নাঙ্গলকোট উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের নারান্দিয়া গ্রামের জহিরুল হক শিপনের ছেলে। শুক্রবার (২৯শে মে) দুপুর আনুমানিক পৌনে ১টার দিকে নাঙ্গলকোট উপজেলার নারান্দিয়া ব্রিজ সংলগ্ন ডাকাতিয়া নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
একসাথে সাঁতার দেয়া শিহাবের বন্ধু মোহাম্মদ নাফি বলেন, শুক্রবার দুপুরে শিহাব-সহ আমরা ৪বন্ধু নারান্দিয়া ব্রীজের উপর দিয়ে তালের শাঁস খেতে নদীর অপর পাড়ের জাগজুর গ্রামে যাই। জুমার নামাজের সময় ঘনিয়ে আসায় আমরা দ্রুত পার হতে ৪জনই নদী পার হতে সাঁতার দেয়া শুরু করি। নদীর মধ্য খানে এসে তীব্রস্রোতে শিহাব দুর্বল হয়ে পড়ে। এসময় আমরা ৩বন্ধু আপ্রাণ চেষ্টা করেও তাকে তীরে উঠাতে পারিনি, সে নদীতে তলিয়ে যায়।
চৌদ্দগ্রাম ফায়ার স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান জানান, শুক্রবার দুপুর আনুমানিক ১টা ২৫ মিনিটে কলেজ ছাত্র শিহাবের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাই। আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখোঁজ শিহাবকে উদ্ধারের চেষ্টা করি। তাৎক্ষণিক চাঁদপুর থেকে ডুবুরি টিমকেও খবর পাঠাই। চাঁদপুরের ডুবুরি টিম মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে বিকেল থেকে চেষ্টা করেও নিখোঁজ শিহাবকে উদ্ধার করতে পারেনি। পরে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় উদ্ধার কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। শনিবার ভোর সাড়ে ৫ টায় পুনরায় উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করি। একপর্যায়ে সকাল সোয়া ৭টার দিকে ডাকাতিয়া নদীর নারানদিয়া ব্রীজ সংলগ্ন এলাকা থেকে ডুবন্ত অবস্থা শিহাবের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। শিহাবের মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।
সাফায়েত উল্লাহ মিয়াজী, নাঙ্গলকোট