কুমিল্লা নগরীতে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান প্রাইম হাসপাতাল ও ডেল্টা হাসপাতাল সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে মিশন হাসপাতাল ও এভারগ্রিন হাসপাতালের ল্যাব এবং জননী ডায়াগনস্টিক পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন কুমিল্লা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম ও ডা. ওসমান হোসেন জাবির। অভিযানে হাসপাতালগুলোর নিবন্ধন, অনুমোদন ও আবেদনসংক্রান্ত কাগজপত্র, রোগী ভর্তি কক্ষ, প্যাথলজি, অপারেশন থিয়েটারসহ বিভিন্ন সেবার বৈধতা ও কার্যক্রম যাচাই করা হয়।
অভিযান শেষে মেডিকেল অফিসার ডা. ওসমান হোসেন জাবির জানান, প্রাইম হাসপাতাল ও জননী ডায়াগনস্টিক কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য বিভাগের অনুমোদন ছাড়াই হাসপাতালের ঠিকানা পরিবর্তন করেছে। অন্যদিকে, ডেল্টা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিবন্ধনের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এসব অনিয়মের কারণে হাসপাতাল দুটি এবং একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মিশন হাসপাতাল ও এভারগ্রিন হাসপাতালের ল্যাবে অননুমোদিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা পরিচালনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ল্যাব দুটি বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে স্বাস্থ্য বিভাগের জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।
মেডিকেল অফিসার ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আমাদের অভিযান কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নয়; বরং হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিচালনায় অনিয়ম, আইন লঙ্ঘন এবং অনুমোদনবিহীন কার্যক্রমের বিরুদ্ধে। আমরা চাই সব প্রতিষ্ঠান আইন মেনে পরিচালিত হোক এবং চিকিৎসকরা বৈধতা যাচাই করেই কোনো প্রতিষ্ঠানে প্র্যাকটিস করুন।”
তিনি আরও বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের আগে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল বা ক্লিনিকের প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও নিবন্ধন রয়েছে কি না, তা চিকিৎসকদেরও নিশ্চিত হওয়া উচিত। এতে স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে সব বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে আইন মেনে সেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
জেলা ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. রেজা মোহাম্মদ সরোয়ার আকবর জানান, বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর সেবার মান, নিবন্ধন ও আইনগত বৈধতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক