কুমিল্লার নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলার দুই গ্রামবাসীদের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার দিনভর দফায়-দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানান স্থানীয়রা। মনোহরগঞ্জ উপজেলার হাতিমারা গ্রামের এক নারীর সাথে পূজকরা গ্রামের এক ব্যক্তির বাকবিতন্ডাকে কেন্দ্র করে সকাল থেকে কুমিল্লা-নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়কের নাঙ্গলকোটের আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের পূজকরা গ্রামের জামাইর দোকান নামক এলাকায় দফায়-দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে নাঙ্গলকোট, মনোহরগঞ্জ ও লাকসাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে। পরে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। তবে উভয় পক্ষ পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ করেছে। সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর নাথেরপেটুয়া বাজারে হাতিমারা গ্রামের এক নারীকে উদ্দেশ করে পূজকরা গ্রামের এক ব্যক্তির কটুকথাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামের লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে বৃহস্পতিবার সকালে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
পূজকরা গ্রামের আল মামুন কনজুমার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানার ম্যানেজার রাকিবুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সকালে ৪০-৫০ জনের একটি দল অস্ত্র নিয়ে এলাকায় এসে হামলা চালায়। এ সময় কারখানার আশপাশে থাকা সিসিটিভি ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। বিভিন্ন বাড়িঘর ও দোকানে হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। কারখানায় থাকা একটি মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া এবং কারখানার অফিসে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে বলে তিনি দাবি করেন।
পূজকরা গ্রামের রাকিবুল ইসলাম বলেন, হামলায় বাধা দিতে গেলে কয়েকজনের ওপরও হামলা চালানো হয়। এতে পূজকরা গ্রামের ১০-১২ জন আহত হয়েছেন। আহতরা বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
হাতিমারা গ্রামের ব্যবসায়ী রুবেল অভিযোগ করেন, মঙ্গলবার রাতে নাথেরপেটুয়া বাজারে হাতিমারা গ্রামের এক নারীকে উদ্দেশ করে পূজকরা গ্রামের কয়েকজন খারাপ কথা বলেন। এর প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার সকালে পূজকরা গ্রামের লোকজন মাইকিং করে হাতিমারা গ্রামের বিভিন্ন বাড়িঘর ও দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তিনি আরও বলেন, হামলায় বাধা দিতে গেলে হাতিমারা গ্রামের কয়েকজনের ওপরও হামলা করা হয়। এতে ৮-১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের লাকসামের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ বলেন, “পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।”
নাঙ্গলকোট থানার ওসি শাহীনূর ইসলাম বলেন, “তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ করছে। হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্রধারীদের পরবর্তীতে শনাক্ত করা হবে।”
সাফায়েত উল্লাহ মিয়াজী, নাঙ্গলকোট