কুমিল্লার দেবিদ্বারে স্বর্ণের দোকানে সংঘটিত চুরির ঘটনায় এক দম্পতিকে আটক করেছে পুলিশ। কুমিল্লা ইপিজেড এলাকার একটি স্বর্ণের দোকানে ওই চোরাই স্বর্ণ বিক্রি করতে গিয়ে তারা আটক হয়।
আটককৃতরা হলেন মো. করিম প্রকাশ আবু তাহের (৩০) এবং তার স্ত্রী শারমিন আক্তার (২৫)। করিম কুমিল্লা কোতোয়ালি থানার শুভপুর গ্রামের মৃত আব্দুল্লাহর পুত্র এবং শারমিন তার স্ত্রী। রবিবার দুপুরে পুলিশ তাদের কুমিল্লা কোর্টে হাজতে প্রেরণ করেছে।
পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার (১৬ মে) দুপুরে, জুমার নামাজের সময়। দেবিদ্বার কলেজ রোডের বারেক প্লাজার ‘খাদিজা শিল্পালয়’ এর তালা কেটে স্বর্ণালংকার চুরি করে একটি চক্র। দোকানের মালিক মো. জাকির হোসেন নামাজ শেষে ফিরে এসে দেখেন, দোকানের তালা ভাঙা এবং শোকেস থেকে প্রায় ৪০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার চুরি হয়েছে। দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ৫-৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ চোরচক্র শোকেস ভেঙে গহনা চুরি করে ব্যাগে ভরে নিয়ে যায়।
ওই দিন সন্ধ্যায় কুমিল্লা সদরের ইপিজেড এলাকার একটি স্বর্ণের দোকানে কিছু স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করতে যায় ওই দম্পতি। দোকানের মালিক সাজ্জাদ হোসেন গহনায় ‘খাদিজা শিল্পালয়’-এর সংক্ষিপ্ত নাম ‘কঝ’ দেখতে পান । সাজ্জাদ হোসেন দখাদিজা শিল্পালয়েরদ মালিক জাকির হোসেনের আপন ভায়রা ভাই হওয়ায় দেবিদ্বারের দোকানে চুরি হওয়ার ঘটনা অবগত ছিলেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জাকিরকে ফোনে বিষয়টি জানান এবং পুলিশের সহযোগিতায় দম্পতিকে প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণসহ আটক করেন।
জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায়, মুরাদনগরের আবুল কাসেম (৩৫) নামের এক ব্যক্তি তাদের এসব স্বর্ণালঙ্কার বিক্রি করে দিতে বলেন। তারা কেবল বিক্রির দায়িত্ব নিয়েছিল। জানা গেছে, করিমের সাথে কাসেমের পরিচয় হয় অনলাইন জুয়া খেলার মাধ্যমে। করিম তাকে অনলাইন জুয়ার সদস্য করেন এবং সেখান থেকেই তাদের ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুদ্দীন মোহাম্মদ ইলিয়াছ বলেন, “আটক দম্পতিকে কোর্টের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। রিমান্ডে এনে চোরচক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করার জন্য আসামীদের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।”
দেবিদ্বার প্রতিনিধি