কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ অনিয়ম ও দুর্নীতির আঁতুড় ঘরে রূপান্তর হয়েছে। ওই ইউনিয়ন পরিষদে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে পোহাতে হচ্ছে নিদারুণ যন্ত্রণা, খোয়াতে হচ্ছে নগদ টাকা ও সময়। ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনির হোসেন ওই ইউপি কার্যালয়কে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদে ঘুষ ছাড়া মিলেনা কোন গ্রাহক সেবা। জন্ম সনদ সংশোধনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনির হোসেনকে দিতে হয় ৩ থেকে ১২ হাজার টাকা। নতুন জন্ম সনদ, মৃত্যু সনদ, ওয়ারিশ সনদ ও চারিত্রিক সনদও মিলেনা ঘুষ ছাড়া। ফলে ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনির হোসেন ইতিপূর্বে কয়েক দফা পড়তে হয়েছে জনগণের তোপের মুখে। সর্বশেষ সোমবার বিকালে স্থানীয়রা মনির হোসেন কে ঘুষ বাণিজ্য কালে হাতেনাতে ধরে ফেলে। এসময় স্থানীয়দের জেরার মুখে সংবাদ কর্মীদের সামনে মনির হোসেন ঘুষ নেওয়ার বিষয়ে স্বীকার করেন। মঙ্গলবার দুপুরে সরেজমিনে ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদে গেলে ভুক্তভোগীরা মনির হোসেনের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয় সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনির হোসেন কুমিল্লা সদরের কালিয়াজুরী এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামের সাহাব উদ্দিন বলেন, আমি আমার দুই বোনের জন্মসনদ ঠিক করতে আসি, সচিব মনির হোসেন আমার কাছে দুটি জন্ম নিবন্ধনে ১২ হাজার টাকা দাবি করে। পরে আমি গরিব মানুষ বলায় তিনি এক হাজার টাকা কম রাখবেন বলেন।
সরফাতলি গ্রামের রায়হান হোসেন বলেন, আমার ভাইকে বিদেশ পাঠাতে ২বছর বয়স বাড়াতে আসলে সচিব আমার কাছে ৪হাজার টাকা চান। এরমধ্যে আবেদনের সাথে ২হাজার টাকা ও জন্মসনদ নেয়ার সময় বাকি ২হাজার টাকা দিতে হবে।
চান্দলা গ্রামের একরাম হোসেন বলেন, আমার জন্ম সনদের ভুল সংশোধনের জন্য সচিব ৩ হাজার টাকা দাবি করে। পরে আমি মন্নারা ছালামত উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় সভাপতি বিএনপি নেতা পারভেজ ভূঁইয়া ভাইয়ের কাছে গেলে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অহিদুর রহমানকে ফোন দিলে সচিব আমার নিকট থেকে ২ হাজার ৫শ' টাকা নেন।
স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী পারভেজ ভূঁইয়া বলেন, ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনির হোসেনের বিরুদ্ধে নানান রকম অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিগত ৫ বছর যাবত এ ইউনিয়ন পরিষদে দুর্নীতি করে যাচ্ছে। সর্বশেষ গত কয়েকদিন পূর্বে আমি একজনের জন্ম সনদের ভুল সংশোধন করতে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে তাকে অনুরোধ করলে সেখানেও সে ২ হাজার ৫শ' টাকা আদায় করে। ফলে স্থানীয়দের নিয়ে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপস্থিতে আমি তাকে জিজ্ঞেস করতে ইউনিয়ন পরিষদে যাই, সেখানে তিনি অনায়াসে বিষয়গুলো স্বীকার করে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন। আমি এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
অভিযুক্ত ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, জন্মসনদ সংশোধন অন্যদেরকে টাকা দিয়ে করাতে হয়। তাই টাকা নিয়েছি, আমার ভুল হয়েছে এখন থেকে নিবো না। ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদের অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার দায় তার একার কিনা প্রশ্ন করলে অভিযুক্ত মনির হোসেন বলেন, আমি একা দায়ভার নিব কেন অন্যরাও আছে।
ঢালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অহিদুর রহমান বলেন, ঘুষ নেয়ার বিষয়ে এ পর্যন্ত তাকে অনেকবার সতর্ক করা হয়েছে। বিষয়টি আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও অবহিত করেছি।
নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু রায়হান বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি