কুমিল্লার লালমাইয়ে মোবাইল ফোন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে আবদুর রশিদ (৩৫) নামে এক ট্রাকচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার হরিশ্চর রেলগেট এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের ঘনিষ্ঠ তিনজনকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে স্থানীয়দের সহায়তায় হরিশ্চর রেলগেট এলাকা থেকে আবদুর রশিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
নিহত আবদুর রশিদ লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। তিনি পেশায় ট্রাকচালক ছিলেন।
আটক তিনজন হলেন—পেরুল উত্তর ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আলী আক্কাছের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩৪), উৎসবপদুয়া গ্রামের রৌশন আলীর ছেলে মো. রাকিব (২৫) এবং মেঘনা উপজেলার সাতানি শিবনগর গ্রামের মনির হোসেনের ছেলে আল আমিন (৩৬)।
পুলিশ জানায়, নিহত আবদুর রশিদের সঙ্গে আটক মহিন উদ্দিনের মোবাইল ফোন সংক্রান্ত বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশও হয়েছিল। পুলিশের প্রাথমিক বক্তব্য অনুযায়ী, ওই বিরোধের জের ধরেই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনার সময় আটক তিনজনই ঘটনাস্থলে ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, নিহতের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশের আরেক কর্মকর্তা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয়দের সহায়তায় রেলগেট এলাকা থেকে মরদেহ উদ্ধার করে। মরদেহের মাথার বাম পাশে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আল আমিনকে প্রধান আসামি করে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, হত্যাকাণ্ডে কার কী ভূমিকা ছিল এবং কীভাবে ট্রাকচালকের মৃত্যু হয়েছে—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে রেলপথের পাশে একজন ট্রাকচালকের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ মাসুদ রানা