কুমিল্লা | বঙ্গাব্দ
গোমতী নদীভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে রঘুরামপুর, ঝুঁকিতে ৫ হাজার মানুষ
গোমতী নদীভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে রঘুরামপুর, ঝুঁকিতে ৫ হাজার মান...
0:00
0:00

গোমতী নদীভাঙনে অস্তিত্ব সংকটে রঘুরামপুর, ঝুঁকিতে ৫ হাজার মানুষ

ছবির ক্যাপশন:

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম রঘুরামপুর গোমতী নদীর ভাঙন ও বন্যার তীব্র ঝুঁকিতে রয়েছে। এই গ্রামের প্রায় ৪ থেকে ৫ হাজার মানুষ এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। গত কয়েক বছর ধরে নদীভাঙনে একের পর এক ফসলি জমি ও চলাচলের রাস্তা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে নদী বসতভিটার একেবারে কাছাকাছি চলে আসায় ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে দিন পার করছেন স্থানীয়রা।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোমতী নদীর বেড়িবাঁধের ভেতরে অবস্থিত এই জনপদে দুর্ভোগ যেন নিত্যসঙ্গী। একদিকে নদীভাঙন, অন্যদিকে উজানের ঢল—বর্ষা এলেই এখানে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে গোমতী নদীর বাঁক ও গতিপথ পরিবর্তনের কারণে ভাঙন আরও মারাত্মক রূপ ধারণ করেছে।

​স্থানীয় কৃষক কাসেম মিয়া জানান, গোমতীর ভাঙনে তাদের অনেক ফসলি জমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। একসময়ের আবাদি জমিতে এখন শুধু নদীর পানি। দ্রুত ভাঙন রোধ করা না গেলে তাদের শেষ সম্বল বসতভিটাও নদীর কবলে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার বলেন, নদী এখন বাড়িঘরের এত কাছে চলে এসেছে যে, পরিবার নিয়ে সবসময় শঙ্কিত থাকতে হয়। কৃষক রবিউল ইসলামের মতে, শুধু ফসলি জমিই নয়, নদীভাঙনে গ্রামের চলাচলের রাস্তাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে কৃষিপণ্য পরিবহনসহ সাধারণ মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

​উল্লেখ্য, এর আগে ২০২৪ সালের আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় রঘুরামপুর পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও স্থানীয় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা অজুফা বেগম জানান, সেই ক্ষতির রেশ কাটতে না কাটতেই নতুন করে বাড়িঘরের দিকে নদী এগিয়ে আসায় তারা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

​গ্রামের প্রধান সড়কের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে গোমতীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য সরু মেম্বার জানান, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ নদীভাঙন ও বন্যার সঙ্গে লড়াই করছেন। প্রধান সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে এবং স্থায়ীভাবে নদীভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ একান্ত প্রয়োজন।

​এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, “সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে নদীর লুপ কাটিং, জিও ব্যাগ ও ব্লকের মাধ্যমে রঘুরামপুর গ্রামটি রক্ষায় কাজ করা হবে।”

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ