কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। সোমবার প্রকাশিত ফলাফলে এস.এস.সি পরীক্ষায় ৩ হাজার ১৪৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ১ হাজার ৫৩৬ জন, শতকরা ৪৮.৭৯ ভাগ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯জন। দাখিল পরীক্ষায় ১ হাজার ৪৭১ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ৭৭৪ শিক্ষার্থী, শতকরা ৫২.৬১ ভাগ, জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১জন।
এস.এস.সি ভোকেশনালে ২২৬ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে পাস করেছে ১৫৬ জন শিক্ষার্থী, শতকরা ৬৯.০৩% পরীক্ষার্থী পাস করেছে, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৯জন। এছাড়া ফলাফলে দেখা যায় উপজেলার দুটি দাখিল মাদ্রাসার কোনো পরীক্ষার্থী কৃতকার্য হয়নি। প্রতিষ্ঠান দু'টি হলো শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা ও দাসনাই পাড়া ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসা। শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা থেকে ১০জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে একজনও পাস করেনি এবং দাসনাই পাড়া ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসা থেকে ২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিয়ে তাদের কেউ কৃতকার্য হতে পারেনি।
শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা'র বিষয়ে স্থানীয়দের দাবি মাদ্রাসা অফিসে সংসার পেতে বসা, সুপারের পরিবারের ৫ জনের একই মাদ্রাসায় চাকুরী ও নৈশপ্রহরী ভাইয়ের সাথে সুপারের বিরোধের ফলে মাদ্রাসায় লেখাপড়ার পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় এমন ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে।
এছাড়া, দাসনাইপাড়া ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আবু ইউসুফ দুর্নীতি ও অনিয়মের দায়ে বহিস্কৃত হওয়ায় এবং শিক্ষক ও স্থানীয়দের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের ফলে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার মান চরম বিপর্যয় পড়েছে।
শ্যামপুর এখলাছিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসা সুপার মাওলানা আবুল খায়ের বলেন অনেক কিশোরী শিক্ষার্থী'র বিয়ে হয়ে যাওয়ায় এবং পড়ালেখায় অমনোযোগী হওয়ার কারণে এমন ফলাফল বিপর্যয় হয়েছে।
দাসনাইপাড়া ইসলামীয়া দাখিল মাদ্রাসা ভারপ্রাপ্ত সুপার একরামুল হক বলেন, মাদ্রাসার নানান রকম সম্যাসার কারনে শিক্ষাথী সংকটে পড়েছে, ২জন শিক্ষাার্থী ফরম ফিলাপ করলেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে ১জন। কিন্তু ওই শিক্ষার্থীও অকৃতকার্য হয়েছে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, আমি রেজাল্ট পাওয়ার কিছুক্ষণ পর শতভাগ অকৃতকার্য দুই প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ফোন করে প্রতিষ্ঠানের ফলাফল বিপর্যয়ের বিষয় ব্যাখ্যা দিতে বলেছি।
নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি