কুমিল্লা | বঙ্গাব্দ
এক কিলোমিটার ভাঙা সড়কে ২০ কিলোমিটার যানজট
এক কিলোমিটার ভাঙা সড়কে ২০ কিলোমিটার যানজট
0:00
0:00

এক কিলোমিটার ভাঙা সড়কে ২০ কিলোমিটার যানজট

ছবির ক্যাপশন:

কুমিল্লায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাত্র এক কিলোমিটার অংশের খানাখন্দ ও সংস্কারকাজের ধীরগতির কারণে প্রায় ২০ কিলোমিটার এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এমন পরিস্থিতি বিরাজ করায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন যাত্রী, চালক ও পণ্য পরিবহন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল থেকে ময়নামতি সেনানিবাসসংলগ্ন আমতলী এলাকায় মহাসড়কের ভাঙাচোরা অংশকে কেন্দ্র করে তীব্র যানজট দেখা দেয়। যানজট ঢাকামুখী লেনে কুমিল্লার আলেখারচর থেকে সদর দক্ষিণ উপজেলার সুয়াগাজী পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এতে শত শত দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থাকে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে আমতলীসহ মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে সংস্কার করা হলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণে বৃষ্টির পানি ও অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে অল্প সময়ের মধ্যেই সড়কে আবারও বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, আমতলী এলাকায় প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। সংস্কারকাজের জন্য তৈরি বিকল্প লেনেও বৃষ্টির পানি জমে কাদা-মাটিতে একাকার হয়ে গেছে। ফলে যানবাহনকে অত্যন্ত ধীরগতিতে ওই অংশ অতিক্রম করতে হচ্ছে। এক কিলোমিটার পথ পার হতে দীর্ঘ সময় লাগায় এর প্রভাব পড়ছে পুরো মহাসড়কের যান চলাচলে।

চালকরা জানান, গর্তে পড়ে যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে। দীর্ঘ যানজটে আটকে থাকা চালকদের কেউ কেউ বিপরীত লেন দিয়ে চলাচলের চেষ্টা করায় যানজট আরও জটিল হয়ে উঠছে।

ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আনিসুর রহমান বলেন, সড়ক বিভাগ গত তিন মাস ধরে আমতলী এলাকায় সংস্কারকাজ চালাচ্ছে। এতে যানবাহন চলাচলে ব্যাপক সমস্যা হচ্ছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে হাইওয়ে পুলিশের সদস্যরা দিন-রাত দায়িত্ব পালন করছেন। তবে দ্রুত সড়ক মেরামত না হলে শুধু পুলিশি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব নয়।

যানজটে আটকে থাকা এশিয়া লাইন বাসের চালক আবুল কালাম বলেন, প্রতি বছর সংস্কারের পরও বর্ষা মৌসুমে একই জায়গায় গর্ত তৈরি হয়। আমতলী এলাকার সামান্য অংশে যানবাহনের গতি কমে যাওয়ায় এর প্রভাব কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে।

লরি চালক আবু রায়হান বলেন, প্রায় তিন মাস ধরে আমতলী এলাকার ভাঙা সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। মালামাল বোঝাই ট্রাক নিয়ে গর্তে নামা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই বাধ্য হয়ে ধীরগতিতে চলতে হয়। এতে এক কিলোমিটার সড়কের কারণে প্রায় ২০ কিলোমিটার যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ কুমিল্লার উপ-সহকারী প্রকৌশলী সায়েদুর রহমান বলেন, ভারি বর্ষণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মহাসড়ক সচল রাখতে নিয়মিত ইটের খোয়া ফেলা হচ্ছে। তবে আমতলী এলাকার সংস্কারকাজ কবে নাগাদ শেষ হবে, সে বিষয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি।

কুমিল্লা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা সংস্কারে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমতলী এলাকায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের জন্য পর্যাপ্ত ড্রেন নেই। ফলে বর্ষাকালে সেখানে পানি জমে থাকে এবং সড়কের সংস্কার টেকসই হয় না। ওই এলাকায় টেকসই মেরামতের পাশাপাশি ড্রেন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শাহিনুর ইসলাম বলেন, আমতলী এলাকায় বড় বড় গর্তের কারণে যানবাহনের গতি থেমে যায়। বিষয়টি নিয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে বারবার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। দ্রুত টেকসই সংস্কার করা না হলে এ ভোগান্তি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ