সামান্য বৃষ্টিতেই কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা সদরের দীর্ঘভূমি এলাকায় থানা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সংযোগ সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। আশপাশের কয়েকটি বাড়ির পানি সরাসরি সড়কে নিষ্কাশন হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি যেন ড্রেনে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত চরম দুর্ভোগে পড়ছেন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আসা কয়েক লাখ মানুষ।
এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষসহ স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী হাজারো শিক্ষার্থী। বিশেষ করে থানা এবং হাসপাতালের প্রধান সড়ক হওয়ায় প্রতিদিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এ সড়কটি ব্যবহার করে কয়েক লক্ষ মানুষ৷
সড়কের বিভিন্ন স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে রয়েছে। পানির নিচে বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে এবং আহত হচ্ছেন পথচারীরা। বিশেষ করে রোগী বহনকারী যানবাহন, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দুলালপুর, শিদলাই ও মাধবপুর ইউনিয়নসহ প্রায় ২৫টি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করেন। এছাড়া উপজেলার বাকি পাঁচ ইউনিয়নের বাসিন্দাদের থানা ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাতায়াতের অন্যতম প্রধান পথ এটি। সড়কটির পাশে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকায় শিক্ষার্থীরাও দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। একদিন বৃষ্টি হলেই ৫ থেকে ৭ দিন পর্যন্ত জলাবদ্ধতা স্থায়ী থাকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দীর্ঘভূমি গ্রামের একাধিক বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, এ রাস্তায় জলাবদ্ধতার প্রধান কারন হল আশপাশের লোকজন৷ তাদের বাড়ির পানি সরাসরি রাস্তায় ফেলে এটাকে রিতি মত ড্রেইনে পরিনত করেছে৷ সবার আগে আশপাশের বাড়ির মানুষদের আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাচ্ছি৷ কারন তাদের জন্য কয়েক লক্ষ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পরেছে৷
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) গোলাপ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, এই সড়কটির নতুন করে টেন্ডার হয়েছে। আগে রাস্তাটি ১২ ফুট চওড়া ছিল, এখন তা ১৮ ফুটে উন্নীত করা হচ্ছে। দীর্ঘভূমি অংশের এই ভাঙা জায়গাটি এর আগেও মেরামত করা হয়েছিল। আগামী ২০২৭ সালের জুনের আগেই পুরো রাস্তার কাজ সম্পূর্ণ শেষ হবে।
মোঃ হাবিবুর রহমান সোহেল, ব্রাহ্মণপাড়া