টানা তিন বছর জাতীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতি অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণ করে ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে কৃতিত্ব অর্জন করেছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের পরিসংখ্যান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের (২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষ) শিক্ষার্থী মোসাম্মদ তাসনিম আক্তার মীম।
ধারাবাহিক সাফল্যের অংশ হিসেবে ১ম জাতীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতি অলিম্পিয়াড-২০২৩-এ কবিতা আবৃত্তি বিভাগে প্রথম স্থান, ২য় জাতীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতি অলিম্পিয়াড-২০২৫ (বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়)-এ চিত্রাঙ্কন বিভাগে প্রথম স্থান এবং ৩য় জাতীয় সাহিত্য ও সংস্কৃতি অলিম্পিয়াড-২০২৬ (বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়)-এ কবিতা লিখন বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন তিনি।
সাহিত্যাঙ্গনে মীম মূলত একজন নবীন কবি হিসেবে পরিচিত। ২০২৩ সালের একুশে বইমেলায় নবসাহিত্য প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত যৌথ কাব্যগ্রন্থ ‘শতকাব্য’-এ তাঁর লেখা স্থান পায়। এছাড়া তাঁর প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে ‘শব্দের প্রতিবিম্ব’, ‘সুখ দুঃখের সারাংশ’ এবং ‘শুভ্রতার ছোঁয়া’।
সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও নেতৃত্বমূলক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় রয়েছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ভিক্টোরিয়া কলেজে দ্বিমাসিক মুখপত্র ক্যাম্পাস বার্তার প্রশিক্ষণ সম্পাদক, কুমিল্লা কবি পরিষদের আবৃত্তি সম্পাদক, প্রথম আলো বন্ধুসভার পাঠ ও পাঠচক্র সম্পাদক এবং অ্যাসোসিয়েট ফর স্টুডেন্ট প্রোগ্রেস (ASP)-এর ডিবেট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB)-এর ডেপুটি লিডার ও ইয়ুথ চেঞ্জ সোসাইটি বাংলাদেশ (YESBD)-এর টিম মেম্বার হিসেবেও যুক্ত রয়েছেন।
পুরস্কার ও অর্জনের তালিকায় রয়েছে আন্তর্জাতিক রৌপ্য পদক প্রতিযোগিতার কবিতা লিখন বিভাগে দ্বিতীয় রানারআপ এবং কুমিল্লা জেলার বুড়িচং উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত বিতর্ক প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব।
নিজের ধারাবাহিক সাফল্য প্রসঙ্গে তাসনিম আক্তার মীম বলেন, “টানা তিন বছর জাতীয় পর্যায়ের এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করে প্রতিবারই ভিন্ন ভিন্ন বিভাগে নিজের সৃজনশীলতা তুলে ধরতে পারা আমার জন্য অত্যন্ত আনন্দের। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ গ্রহণ এবং প্রতিটি ধাপে নিজেকে সমৃদ্ধ করার সুযোগ পেয়েছি।”
সাহিত্যচর্চা নিয়ে তিনি বলেন, “নতুন যারা লেখালেখি করতে চায়, তাদের চারপাশের সূক্ষ্ম বিষয়গুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। দেশ ও জাতির কল্যাণ, সমাজের সমস্যা ও তার সমাধান নিয়ে লেখালেখির মাধ্যমে একজন লেখক সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের ভূমিকা রাখতে পারেন।”
ছাত্রজীবনের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “ছাত্রজীবনই প্রতিভা বিকাশের সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। তাই অপ্রয়োজনীয় আড্ডায় সময় নষ্ট না করে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।”
দেশে সাহিত্যচর্চা প্রসারে তিনি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অন্তত একটি সাহিত্য ক্লাব গঠন এবং সাহিত্য, সাংবাদিকতা ও সৃজনশীল লেখালেখি বিষয়ে নিয়মিত কর্মশালার আয়োজনের আহ্বান জানান। তাঁর ভাষায়, “এতে নতুন প্রজন্মের মধ্যে সাহিত্যচর্চার আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে এবং তৈরি হবে দক্ষ লেখক।”
ভবিষ্যৎ ভাবনা সম্পর্কে মীম বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, একমাত্র লেখকরাই পারে একটি জাতি বা সভ্যতাকে পরিবর্তন করতে।”
ইয়াসমিন আক্তার মীম, ভিক্টোরিয়া প্রতিনিধি