কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বেড়াখলা আব্দুল মতিন খসরু বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের পুনর্বহালের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সাথে বিদ্যালয়ে অবৈধ প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও বিধিভঙ্গ করে বেতন ভাতা তোলার কথা বলা হয়েছে। আদালতের এই নিষেধাজ্ঞার ফলে রীট নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাসিনা ইসলামের দায়িত্ব পালনে আর কোন বাধা নেই।
গত ৫ মে বিচারপতি আহমেদ সোহেল এবং বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। গত ১৩ মে আদেশের লিখিত অনুলিপি প্রকাশিত হয়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম তার পদে পুনর্বহাল এবং বকেয়া বেতন-ভাতার দাবিতে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন। তবে বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মৎ হাসিনা ইসলাম ওই রিটের বিপরীতে একটি নিষেধাজ্ঞার আবেদন দাখিল করেন।
৯ নং বিবাদী (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খাজা তানভীর আহমেদ আদালতে জানান, আমিনুল ইসলাম উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তৎকালীন ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির কাছ থেকে গোপনে ৫ বছরের ছুটি নেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই ছুটির মেয়াদে তিনি বেআইনিভাবে স্কুলের প্রশাসনে হস্তক্ষেপ করেন এবং ২০১৯ সাল থেকে নিয়মিত বেতন উত্তোলন করেন, যা সম্পূর্ণ বিধি পরিপন্থী।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তর (DIA) গত ১৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে একটি চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়, যেখানে জাল নিয়োগ ও আর্থিক অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। এছাড়া জেলা শিক্ষা অফিসারও এ বিষয়ে নেতিবাচক সুপারিশ প্রদান করেন। রিট আবেদনকারী মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম আদালতের একটি আদেশ সম্পর্কে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বিবৃতি দিয়েছেন, যাকে আদালত "জঘন্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কারচুপি" হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আবেদনকারীর আচরণ এবং তদন্ত প্রতিবেদনের গুরুত্ব বিবেচনা করে আদালত আদেশ দেন যে, মামলার রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ১ থেকে ৮ নং বিবাদী (শিক্ষা সচিব, মাউশি মহাপরিচালক, কুমিল্লা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রশাসন) কোনোভাবেই মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামকে প্রধান শিক্ষক পদে পুনর্বহাল করতে পারবেন না।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন বিবাদীর পক্ষের আইনজীবী খাজা তানভীর আহমেদ।
উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলামের এই অনিয়মগুলো নিয়ে জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল। আদালতের এই নিষেধাজ্ঞার ফলে বর্তমানে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক অচলাবস্থা কাটবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
প্রতিনিধি