কুমিল্লা | বঙ্গাব্দ

মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ নজরুল হলের শিক্ষার্থীরা

  • প্রকাশের তারিখ : 2-এপ্রিল-2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের আবাসিক নজরুল হলে মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ  শিক্ষার্থীরা। তিনতলা ভবনের হলটির প্রতিটি রুমে শিক্ষার্থীরা দিনেও মশারি টানিয়ে রাখতে হচ্ছে। এছারাও হলের প্রতিটি জানালা ও দরজায় জাল দিয়ে মশরি টানিয়ে রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। এরই মধ্যে মশার কামড়ে অনেকে অসুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

বৃহস্পতিবার হল পরিদর্শন করে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে হলের আশপাশে নোংরা পরিবেশ। অপরিষ্কার ড্রেনে জমে আছে ময়লা পানি। বাথরুম গুলোতে ভেঙে পড়ে আছে ট্যাব। ময়লার বাক্সগুলোতে তীব্র দুর্গন্ধ। আর চারদিকে উড়ছে মশা, মাছি ও বিভিন্ন পোকামাকড়। যেকারণে মশার বংশবিস্তার বৃদ্ধি পেয়েছে। রাতের বেলায় মশার কামড়ে অনেকেই ঘুমাতে পারেন না। অনেকে মশারি, কয়েল ও স্প্রে ব্যবহার করেও রেহাই পাচ্ছেন না। এতে করে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।

হলের নীচতলায় অবস্থানরত ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের  ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী মো. ফোরকান হোসেন বলেন, নজরুল হলের মশা সমস্যা বর্তমানে আবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য তীব্র দুর্ভোগে পরিণত হয়েছে। মশার উপদ্রবে রাতের পড়াশোনা ও স্বাভাবিক ঘুম উভয়ই মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এটি শুধু অস্বস্তির বিষয় নয়, বরং স্বাস্থ্যের জন্যও বড়ো ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করছে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আমাদের জোর দাবি দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করা হোক।

হলের ২৪৪ নং কক্ষে অবস্থানরত বাংলা বিভাগের ২০১৯-২০ সেশনের শিক্ষার্থী  মফিদ আল হাছান পল্লব বলেন, আমরা হলের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে মারাত্মক মশার উপদ্রবে ভুগছি। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মশার আক্রমণ এতটাই বেড়ে যায় যে কক্ষে স্বাভাবিকভাবে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। কয়েল দিয়েও মশা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছেনা। মশার উপদ্রবের কারণে হলের লাইব্রেরিতে বসে পড়ার মতো কোন পরিবেশ নেই।

এছাড়া এ ধরনের পরিবেশে ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া সহ বিভিন্ন মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের জন্য গুরুতর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২৫২ নম্বর রুমে অবস্থানরত হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মাস্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী পাপ্পু সাহা বলেন, নজরুল হলে মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে, যা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও বিশ্রামে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এবং ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, ম্যালেরিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। অপর্যাপ্ত মশা নিধন কার্যক্রম, জমে থাকা পানি, ড্রেনেজ সমস্যা ও পরিচ্ছন্নতার অভাব এর প্রধান কারণ। দ্রুত ফগিং, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য হল কর্তৃপক্ষের প্রতি জরুরি পদক্ষেপের আহ্বান জানাচ্ছি।

নজরুল হলের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ সিপন মিয়া বলেন, আমাদের হলের অবস্থান তুলনামূলকভাবে নিচু হওয়ার কারণে হলের চারদিকে পানি জমে থাকে, যেগুলো আমরা পাম্পের সাহায্যে বাহিরে ফেলতে হয়। তাই নজরুল হলে মশার উপদ্রব একটু বেশি। আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি বিষয়টা সিটি কর্পোরেশনকেও জানানো হয়েছে। আর আমি ব্যক্তিগতভাবে রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিকে সাথে নিয়ে দু-তিন দিনের মধ্যেই একটি পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন অভিজান চালাবো আশা করি আর মশা থাকবে না । পাশাপাশি হলে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের সর্বদা সচেতন থাকতে হবে। যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে।

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবুল বাশার ভূঁঞা বলেন, আমরা কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের কাছে চিঠি দিয়েছি আশা করি খুব দ্রুতই সমাধান হয়ে যাবে।

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ