কুমিল্লার বিভিন্ন আসনে বিএনপি, জামায়াত, এলডিপিসহ একাধিক স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থীর অধিকাংশই পেশায় ব্যবসায়ী। আবার সেই ব্যবসায়ী প্রার্থীর স্ত্রীদের অধিকাংশই ‘পারিবারিক কোটায়’ কাগজকলমে পেশায় ব্যবসায়ী। তাদের অনেকের স্ত্রীও কোটিপতি। কেউ কেউ আবার টাকা-পয়সা ও সম্পত্তিতে স্বামীর চেয়ে এগিয়ে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জেলার ১১টি সংসদীয় আসনে ৭৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ এবং ৩১ জনের বাতিল ঘোষণা করা হয়। বৈধ প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে ১১ আসনে ১৬ কোটিপতি প্রার্থীর তথ্য মিলেছে। যাদের দুইজন বাদে সবার স্ত্রীই কোটিপতি। এ ছাড়া দুজন গৃহিণী ছাড়া সবাই পেশায় ব্যবসায়ী।
কুমিল্লা-১ দাউদকান্দি-মেঘনা আসনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। তাঁর সম্পদ ১৬ কোটি ৭৪ লাখ টাকার। তাঁর স্ত্রী বিলকিস আক্তার হোসেনের সম্পদ ১২ কোটি ৩২ লাখ ৯৯ হাজার ৫১৪ টাকার। এ দম্পতি পেশায় ব্যবসায়ী। একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন ড. মোশাররফ-পুত্র খন্দকার মারুফ হোসেন। আইন পেশায় নিয়োজিত মারুফের সম্পদ চার কোটি ২৮ লাখ ৭১ হাজার টাকার। তাঁর স্ত্রী পেশায় ব্যবসায়ী সানজিদা ইসলাম সাইফার সম্পদ এক কোটি ৬১ লাখ টাকার।
কুমিল্লা-২ হোমনা-তিতাস আসনে পেশায় ব্যবসায়ী এ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী আমির হোসেনের সম্পদ দুই কোটি ৩৯ লাখ ২৯ হাজার ২৩৮ টাকার। একই আসনের বিএনপির প্রার্থী পেশায় ব্যবসায়ী অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার সম্পদ চার কোটি সাত লাখ ৮৪ হাজার টাকা। এ দুই প্রার্থীর স্ত্রীর নামে সম্পদ নেই।
কুমিল্লা-৩ মুরাদনগর আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ পেশায় ব্যবসায়ী। তাঁর সম্পদ এক কোটি ৬৬ লাখ ২৫ হাজার ৯১৮ টাকা। তাঁর স্ত্রী পেশায় গৃহিণী মাহফুজা হোসাইনের সম্পদ এক কোটি ১০ লাখ ২৩ হাজার টাকার।
কুমিল্লা-৪ দেবিদ্বার আসনে বিএনপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর সম্পদ এক কোটি ৩২ লাখ ১৪ হাজার টাকার। তাঁর স্ত্রী মাজেদা আহসান মুন্সীর নামে সম্পদ আছে তিন কোটি ২৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা।
কুমিল্লা-৫ বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া আসনে বিএনপির প্রার্থী জসিম উদ্দিনের সম্পদ আট কোটি এক লাখ ৯৬ হাজার ৫১৭ টাকার। তাঁর স্ত্রী পেশায় গৃহিণী ইরফাত জাহানের সম্পদ ৫১ লাখ ৩২ হাজার টাকা।
কুমিল্লা-৬ সদর ও সদর দক্ষিণ আসনে বিএনপির প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরীর সম্পদের পরিমাণ দুই কোটি ৬৫ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রী আজিজুন নেসার নামে সম্পদ দেখানো হয়েছে ৯৫ লাখ ৭২ হাজার ২৫২ টাকার। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন না পেয়ে প্রার্থী হওয়া আমিন উর রশিদ ইয়াছিনের সম্পদের পরিমাণ ২৯ কোটি ২২ লাখ টাকা। তাঁর স্ত্রী পেশায় ব্যবসায়ী তাহমিনা আক্তারের সম্পদ দেখানো হয়েছে ১৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
কুমিল্লা-৭ চান্দিনা আসনে বিএনপির প্রার্থী ড. রেদেয়ান আহমেদের সম্পত্তি আট কোটি ৮১ লাখ সাত হাজার টাকার। তাঁর ব্যবসায়ী স্ত্রী মমতাজ আহমেদের সম্পদ দুই কোটি ২৪ লাখ ১১ হাজার টাকার।
কুমিল্লা-৮ বরুড়া আসনে বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমনের আছে ২০৪ কোটি ৬২ লাখ ৯ হাজার টাকা এবং তাঁর ব্যবসায়ী স্ত্রী নাজনীন আহমেদের আছে ১২৮ কোটি ২১ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ হেলালের আছে দুই কোটি ১০ লাখ ৩৩ হাজার ৮৫ টাকার সম্পদ। তবে স্ত্রীর নামে নেই কোনো অর্থ সম্পদ।
কুমিল্লা-৯ লাকসাম-মনোহরগঞ্জ আসনের বিএনপির প্রার্থী আবুল কালামের আছে ৪৮ কোটি ৭০ লাখ ১৭ হাজার ২২৪ টাকার সম্পদ। তাঁর ব্যবসায়ী স্ত্রী রহমত আরা বেগমের আছে ১৪ কোটি ৩১ লাখ ৬ হাজার ২৩৫ টাকার সম্পদ।
কুমিল্লা-১০ নাঙ্গলকোট-লালমাই আসনের বিএনপির প্রার্থী আবদুল গফুর ভূঁইয়ার সম্পদ আছে এক কোটি ২৩ লাখ ৬৪ হাজার ৯৭৭ এবং ব্যবসায়ী স্ত্রী জেবুন নাহার ভূঁইয়ার আছে তিন কোটি ৫৫ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৭ টাকার সম্পদ।
কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম আসনে জামায়াতের প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৮০ হাজার ১৯২ টাকা এবং তাঁর চিকিৎসক স্ত্রী ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরীর চার কোটি ৬৪ লাখ ২০ হাজার টাকা। এ আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. কামরুল হুদার সম্পদের পরিমাণ ১০ কোটি সাত লাখ ৩৯ হাজার ৯৬৩ টাকা এবং তাঁর ব্যবসায়ী স্ত্রীর সম্পদ এক কোটি তিন লাখ ৮৫ হাজার টাকার।
চৌদ্দগ্রাম আসনে বিএনপির প্রার্থী কামরুল হুদা বলেন, হলফনামায় তিনি ও তাঁর স্ত্রীর যে সম্পদ দেখানো হয়েছে তাতে সব তথ্য সঠিক। যে কোনো সংস্থা ইচ্ছে করলে তদন্ত করতে পারবে, এসব তথ্য সরকারের ওয়েবসাইটেও আছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) কুমিল্লার সভাপতি শাহ মোহাম্মদ আলমগীর খান বলেন, অতীতেও আমরা দেখেছি প্রার্থীদের হলফনামায় দেওয়া সম্পদের তথ্য ছিল অসত্য ও বিভ্রান্তিকর। এবারও ব্যতিক্রম নয়। ভুল তথ্য দেওয়া একটি সংস্কৃতি হয়ে গেছে। এবার প্রার্থীদের হলফনামা আমরা সংগ্রহ করেছি। প্রতীক বরাদ্দের পর প্রার্থীদের মুখোমুখি বসব।
নেকবর হোসেন