এক শতাব্দীর শিক্ষাযাত্রার গৌরবময় ইতিহাসকে ধারণ করে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার কাদবা তলাগ্রাম তারিণী চরন লাহা উচ্চ বিদ্যালয় উদযাপন করলো তার শতবর্ষ। এ উপলক্ষে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণাঢ্য মিলনমেলা ও দুই দিনব্যাপী নানা আয়োজন। ২৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শতবর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দীপক কুমার সরকার। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শাহ আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইবুনালের জেলা ও দায়রা জজ কেসব রায় চৌধুরী, কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ আবুল বাশার ভূঁইয়া, বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আসাদুজ্জামান রনি, কুমিল্লা ইবনে তাইমিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ শফিকুল আলম হেলাল এবং বিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মোঃ আনোয়ার হোসেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বরুড়া উপজেলা জনকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আবদুস সামাদ, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী মোঃ আইয়ুব আলী, দাতা সদস্য সূর্য কুমার দত্ত, শতবর্ষ উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মোঃ শরীফুল হাসান ফরহাদ এবং বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি রাজিব দত্ত। শতবর্ষ উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সাজানো হয় নতুন রূপে। বাউন্ডারি ওয়াল, প্রশাসনিক ভবন, একাডেমিক ভবন ও মিলনায়তন রং করা হয় এবং লাল-সবুজ-নীল আলোয় আলোকসজ্জা করা হয় পুরো ক্যাম্পাস। প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত একটি দৃষ্টিনন্দন তোরণ অনুষ্ঠানের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি করে। শতবর্ষ উদযাপন কমিটির উদ্যোগে গত এক বছর ধরে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের খুঁজে বের করে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হয়। এ কার্যক্রমে দায়িত্ব পালন করেন ঝলম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ শহিদুল ইসলাম এবং তলাগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ সেলিম জাহান। এ বছর প্রায় ৩ হাজার ৫শ’র বেশি প্রাক্তন শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন। এ উপলক্ষে প্রকাশিত হয় স্মারক ম্যাগাজিন “শতাব্দীর ঐকতান”। ম্যাগাজিনটির সম্পাদক ছিলেন অধ্যক্ষ মোঃ আবদুর রহিম এবং যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন কুমিল্লা মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক উম্মে সালমা ইয়াসমিন, প্রশান্ত কুমার দে ও আলী হোসেন ভূঁইয়া। দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সকালে বিদ্যালয় মাঠ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। পরে বেলুন উড়িয়ে শতবর্ষ উদযাপনের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। আলোচনা সভা, অতিথি পরিচিতি ও ম্যাগাজিনের মোড়ক উন্মোচনের পর দুপুরে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। বিকেলে জনপ্রিয় ব্যান্ডশিল্পী তাশরিফ খানসহ অন্যান্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও র্যাফেল ড্র। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিন প্রাক্তন শিক্ষকদের স্মৃতিচারণ, ব্যাচভিত্তিক পরিচিতি ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হবে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। রেজিস্ট্রেশনকৃত প্রত্যেক প্রাক্তন শিক্ষার্থীর জন্য ছিল টি-শার্ট, মগসহ স্মারক উপহার। সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ, বিএনসিসি, রোভার ও স্কাউটের একাধিক টিম দায়িত্ব পালন করে।
আবু ইউছুফ রাবেত