জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের আঞ্চলিক অফিস বাংলাদেশে স্থাপনকে “গভীর ষড়যন্ত্র” আখ্যা দিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ। সংগঠনের নেতারা বলছেন, এটি দেশের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক রীতিনীতির জন্য হুমকি, যা শেষ পর্যন্ত এলজিবিটিকিউ এক্টিভিজম ও ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেবে।
বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) কুমিল্লার পদুয়া বাজারস্থ হোটেল নুরজাহানের হলরুমে অনুষ্ঠিত জেলা ও মহানগর জমিয়তের সদস্য সম্মেলন ও কাউন্সিলে এসব মন্তব্য করেন তারা।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা সভাপতি মুফতি আমজাদ হোসাইন। প্রধান অতিথি দলের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী বলেন, “মাত্র তিন মাসের সীমিত মেয়াদে ক্ষমতায় আসা সরকার কীভাবে তিন বছরের জন্য মানবাধিকার কমিশনের অফিস স্থাপনের অনুমতি দেয়? শহীদদের রক্ত দিয়ে কেনা স্বাধীনতার সাথে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল এই সিদ্ধান্ত।”
তিনি আরও বলেন, ধর্মকে মৌলবাদ বা জঙ্গিবাদের সাথে এক কাতারে দাঁড় করানো ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা সম্পর্কে অজ্ঞতার পরিচয়। ইসলাম শান্তি, ন্যায় ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়—কখনো জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতারা—সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা বাহাউদ্দীন যাকারিয়া, যুগ্ম মহাসচিব মুফতি মনির হোসাইন কাসেমী, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা লোকমান মাযহারী, প্রচার সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী প্রমুখ।
নেতারা অভিযোগ করে বলেন, ড. মোহাম্মদ সারোয়ার হোসেন ও আসিফ মাহতাব উৎস-এর মতো লেখকদের বিরুদ্ধে সমকামী এক্টিভিস্ট সাফওয়ান চৌধুরী রেবিল-এর প্রকাশ্য হত্যার হুমকি “চরম নিন্দনীয় ও উদ্বেগজনক।” তারা অবিলম্বে তার গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
কাউন্সিলে নেতারা জোর দিয়ে বলেন এলজিবিটিকিউ আন্দোলনের নামে অপসংস্কৃতি ছড়ানো হচ্ছে, যা রোধে সরকারের কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ইসলামি মূল্যবোধ, পারিবারিক কাঠামো ও সামাজিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে। আন্তর্জাতিক চাপ ও অপতৎপরতার বিরুদ্ধে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
অধিবেশনে খেলাফত মজলিস, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এনপিপি’র স্থানীয় নেতারাও বক্তব্য দেন। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান—“জাতীয় স্বার্থ ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় বিদেশি প্রভাব ও প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিতে হবে।”
কুমিল্লা গেজেট