কুমিল্লা | বঙ্গাব্দ

কুমিল্লা কংশনগর বাজারে ইজারাদারের দৌরাত্ম্য, ক্ষতিগ্রস্ত হাজারো ক্রেতা-বিক্রেতা

  • প্রকাশের তারিখ : 31-জুলাই-2025 ইং
ছবির ক্যাপশন:

বুড়িচং প্রতিনিধি।। 
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কংশনগর বাজারে ইজারাদারের অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগে ক্ষোভে ফুঁসছে ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতারা। অভিযোগ রয়েছে, সরকার নির্ধারিত হারের চেয়ে ৫ থেকে ১০ গুণ পর্যন্ত বেশি খাজনা আদায় করছে ইজারাদার ও তার লোকজন। এতে একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বিক্রেতারা, অন্যদিকে বাড়তি দামে পণ্য কিনে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিদিন শত শত দোকানি ও হাজারো ক্রেতার ভিড়ে জমজমাট থাকে এই বাজার। তবে ইজারাদারের লাগামহীন খাজনায় অনেক বিক্রেতাই পুঁজি হারিয়ে দিশেহারা। গত ২৬ জুলাই কবুতর বিক্রেতাদের সঙ্গে ইজারাদার পক্ষের সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ৮-১০ জন।

এক কবুতর বিক্রেতা অভিযোগ করেন, "১০ টাকার জায়গায় ৫০ টাকা খাজনা দিয়েছি, তারপরও ৭০ টাকা দাবি করে। না দিলে মারধর করে বসে।"

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, বাজারটি মোট ২৮টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে— মাছ, শুটকি, মুরগি, তরিতরকারি, ফল, কাপড়, পুরাতন মালামাল, ফেরিওয়ালা ইত্যাদি। এসব বিভাগে আলাদা আলাদা লোক দিয়ে খাজনা আদায় করা হয়।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, সরকার যেখানে খাজনা নির্ধারণ করেছে ১০-৩০ টাকা, সেখানে আদায় হচ্ছে ৭০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত। শুধু মাছ বিক্রেতার কাছ থেকেই সাপ্তাহিক হাটে নেওয়া হচ্ছে ৪০০ টাকা করে, যা সরকারি নির্ধারিত হারের (৭৫ টাকা) অনেকগুণ বেশি। এমনকি ভাসমান বুট-বাদাম বিক্রেতারাও ছাড় পাচ্ছেন না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যবসায়ী বলেন, “এই বাজারে ব্যবসা করছি ২৫ বছর। আগে কখনো এমন পরিস্থিতি হয়নি। ইজারাদার এখন বাজারকে ভাগ করে সাব-কন্ট্রাক্ট দিয়ে অর্থ কামানোর ফাঁদ বসিয়েছে।”

বাজারের ইজারাদার খোরশেদ আলম অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমাদের হাতে উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া কোনো নির্ধারিত খাজনার তালিকা নেই। আমরা অতিরিক্ত কিছু আদায় করছি না।”

তবে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানভীর হোসেন বলেন, “সরকার নির্ধারিত হারের বাইরে খাজনা আদায় করা বেআইনি। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখবো। বাজারে খাজনার নির্ধারিত তালিকা প্রকাশ করে মনিটরিং জোরদার করা হবে।”

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ