নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি।।
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বক্সগঞ্জ ইউনিয়নের আলিয়ারা গ্রামে গরু ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, সন্ত্রাসী হামলা ও ব্যাপক ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১৩ জুলাই) বিকালে সংঘটিত এই হামলায় নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী শিশুসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অন্তত ১০টি বাড়িতে ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, পূর্ব বিরোধের জেরে আলিয়ারা গ্রামের খায়ের আহাম্মদের গরু ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবেশী পক্ষ গরুটিকে মারধর করে। প্রতিবাদ করায় খায়ের মেম্বারের ওপর শেখ ফরিদ, আশরাফুল, জনি, শহীদ, সজিব, রিয়াদসহ একদল লোক হামলা চালায়। এরপর ঘটনার জেরে উত্তেজনা বাড়তে থাকলে ২৫ জুন খায়ের মেম্বারের চাচাতো ভাই ও সৌদি প্রবাসী নূর মোহাম্মদের ওপর ফের হামলা হয়।
শেষ পর্যন্ত পুলিশ রবিবার সকালে অভিযুক্ত মুন্নাকে গ্রেপ্তার করলে তার প্রতিক্রিয়ায় বিকালেই মামলার বাদী, সাক্ষী ও তাদের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে জাফর আহাম্মদ, আলাউদ্দিন, আব্দুল মান্নান, পেয়ার আহম্মদ, খায়ের আহম্মদ, অহিদুর রহমান, সোহাগ মিয়া, কামরুজ্জামানসহ ১০টি বাড়িতে ব্যাপক ভাংচুর, টিভি-ফ্রিজ, আসবাবপত্র ধ্বংস এবং নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করা হয়। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আলিয়ারা গ্রামের শাহ আলম ভূঁইয়া বাদী হয়ে নাঙ্গলকোট থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় শেখ ফরিদসহ নামীয় ১১ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও ভুক্তভোগীরা আরও তিনটি পৃথক মামলা দায়ের করেছেন।
নাঙ্গলকোট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে ফজলুল হক বলেন, “হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথ অভিযান পরিচালনা করেছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।”
এদিকে হামলার ঘটনায় আতঙ্কিত এলাকাবাসী সোমবার সকালে সেনাবাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়ে নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন। পরে বিকালে সেনাবাহিনীর কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
কুমিল্লা গেজেট