পরিবেশ নীতি উপেক্ষা করে আবাসিক এলাকায় পোল্ট্রি খামার অপরিচ্ছন্নতা এবং বন্ধের অভিযোগে কুমিল্লা জেলা বরুড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, উপজেলা ইউএনও ও কুমিল্লা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
তাদের অভিযোগ, এসব পোল্ট্রি খামারের বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধে বসতবাড়িগুলোতে বসবাস করতে পারছেন না তারা। লিখিতভাবে জানানো হলেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট বিভাগ।
গত ১৩ এপ্রিল উপজেলা প্রাণীসম্পদ অধিদপ্তর এবং উপজেলা ইউএনও বরাবর অভিযোগ করা হয়। অন্যদিকে ১৫ এপ্রিল জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন উপজেলা দিঘলগাঁও এলাকার ভুক্তভোগীরা।
বরুড়া উপজেলা উত্তর শিলমুড়ি ইউনিয়নের দিঘলগাঁও গ্রামের হাফেজ সামছুল হক বেপারী ২০১২ সালে মা মনি লেয়ার পোল্ট্রি ফার্ম স্থাপন করেন নিজ বাড়িতে। এই খামারের মুরগির বিষ্ঠা/ বর্জ্য রাখা হয়। যা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে আশেপাশে। বিশেষ করে খামারটির আশেপাশে অন্তত ১৫-২০টি বাড়িতে দুর্গন্ধ ছড়িয়েছে। এতে করে পরিবেশ দুষণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যগত জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
পোল্ট্রি ফার্মের পাশেই বাড়ি কয়েকজন সচেতন নাগরিক বলেন, 'প্রতিদিন বিষ্ঠা জমিয়ে রাখায় দুর্গন্ধ প্রকট হয়। তীব্র দুর্গন্ধে রোগগ্রস্ত হয়ে পড়ছে এলাকার মানুষ।
আরেক ভুক্তভোগী বলেন, 'খামারের দুইটি শেডে বর্তমানে ২ হাজারের বেশি মুরগি আছে। সেসব মুরগির বর্জ্য জন্য দুর্গন্ধে বসবাসের অযোগ্য হওয়ায় আমি শহরে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছি। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বাঁধা দিলেও কোন কাজ হয়নি।'
মা মনি লেয়ার পোল্টি ফার্মের মালিক হাফেজ সামছুল হক বেপারী বলেন, আমি ফার্মটি এখান থেকে সরিয়ে নিবো। আমার কাছে কোন দুর্গন্ধ লাগে না।
বরুড়া উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ নাসরিন সুলতানা তনু বলেন। অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা স্পটে যাই। তাকে আমরা নোটিশ দিয়ে এসেছি। ফার্মটি পরিবেশ ও বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রণ না করা হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বরুড়া উপজেলা ইউএনও নু এমং মারমা মং বলেন, আমার কাছে অভিযোগ করা হয়েছে। আমি অতি শ্রীঘ্রই আইনগত ব্যবস্থা নিবো।
কুমিল্লা জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মোসাব্বের হোসেন মোহাম্মদ রাজিব বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তের সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সুজন মজুমদার