কুমিল্লা | বঙ্গাব্দ

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে ৮ কলেজে নেই কোনো এইচএসসি পরীক্ষার্থী

  • প্রকাশের তারিখ : 18-জুন-2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় ৮টি কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থীও অংশ নিতে পারছে না। এর মধ্যে চারটি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী নিবন্ধনই করেনি, আর বাকি চারটি কলেজে নিবন্ধিত ৩৫ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।

কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার্থী শূন্য এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার, তিনটি কুমিল্লা জেলার এবং একটি ফেনী জেলার। কলেজগুলো হলো ফেনীর নোবেল কলেজ; কুমিল্লার বেগম জহুরা মহিলা কলেজ, ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ ও সিসিএন মডেল কলেজ; ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাতগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, কৃষ্ণনগর আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তিতাস মডেল কলেজ এবং উলুকান্দি কলেজ।

এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৪৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৯৪ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্রী ৫৭ হাজার ১৯৬ জন এবং ছাত্র ৩৭ হাজার ৬০৬ জন। অর্থাৎ ছাত্রী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় ১৯ হাজার ৫৯০ জন বেশি।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) মো. সালাহউদ্দিন বলেন, এ বছর বোর্ডের অধীনে ৪৬৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৪ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। তবে আটটি প্রতিষ্ঠানে স্বীকৃতি থাকলেও কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। এছাড়া গত বছর শূন্য থেকে ৫ শতাংশ পাশের হার থাকা ১৩টি প্রতিষ্ঠানের কলেজ শাখার স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে, ফলে সেগুলোও এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না।

তিনি আরও বলেন, প্রতি বছরের মতো এবারও ছাত্রী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এটি নারী শিক্ষার অগ্রগতির ইতিবাচক দিক হলেও ছাত্রদের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শিবু চন্দ্র সরকার জানান, ২০১২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে কলেজ শাখা চালু রয়েছে। কিন্তু এবারই প্রথম কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না।

তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে আসছিল। এ বছর ১০ জন শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল, কিন্তু তারা কেউই পরীক্ষার জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। আর্থিক সংকট ও শিক্ষক সংকটের কারণে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির প্রচারণাও যথাযথভাবে চালানো সম্ভব হয়নি।

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো.জামাল নাসের বলেন, অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে কলেজ শাখা চালু করা হলেও তা কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। এতে আর্থিক সংকট তৈরি হয়, শিক্ষার মান কমে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। পরিকল্পিতভাবে এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করে আলাদা কলেজ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করা হলে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।

এ বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, যেসব কলেজ থেকে কোনো পরীক্ষার্থী অংশ নিতে পারেনি, তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। কেন এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন কিংবা প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ আছে কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হবে।

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ