কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের আদ্রা উত্তর ইউনিয়নের লুধুয়া গ্রামের মজুমদার বাড়ির শতবছরের চলাচলের রাস্তা দীর্ঘ ৬মাস যাবৎ জোরপূর্বক বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই গ্রামের মরহুম হাছান আহম্মেদ মজুমদারের পুত্র হারুনুর রশিদ মজুমদারের বিরুদ্ধে। এর আগে ২০১৭ সালেও অভিযুক্ত হারুনুর রশিদ এ রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়। এসময় রাস্তা বন্ধে প্রতিবাদ করায় হারুন ও তার লোকজনের হামলায় প্রতিপক্ষের কয়েকজন আহত হয়। পরে রাস্তা বন্ধ ও হামলার ঘটনায় ভুক্তভোগীরা আদালতে মামলা দায়ের করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মজুমদার বাড়ির রাস্তা সংলগ্ন স্থানে অভিযুক্ত হারুনুর রশিদ মজুমদার মরহুম মাস্টার ওবায়েদ উল্লাহ মজুমদারের নিকট থেকে রাস্তা বাদ দিয়ে ২ দাগে ৫ শতক সাড়ে ১২ সেন্ড জমি ক্রয় করে বাড়ি নির্মাণ করে। হারুনুর রশিদ মজুমদার জমিটি ক্রয় করার কয়েক বছর পর ২০১৭ সালে দীর্ঘ বছর যাবৎ ব্যবহারিত মজুমদার বাড়ির ভিতরের একমাত্র রাস্তাটি তার ক্রয়কৃত অংশে নিজের দাবি করে বন্ধ করে দেয়। দীর্ঘদিন পর গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাস্তাটি খুলে দেয়। এখন সে পুনরায় বন্ধ করে দিয়েছে।
বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অভিযুক্ত হারুনুর রশিদ পুনরায় রাস্তাটিতে লাকড়ি রেখে ও কিছু গাছ লাগিয়ে বন্ধ করে দিয়েছে। রাস্তাটির মজুমদার বাড়ির ভিতরের অংশ ও বাহিরে মজুমদার বাড়ি কাছারিঘর অংশে খোলা থাকলেও অভিযুক্ত হারুনুর রশিদ মজুমদারের ক্রয়কৃত অংশে তিনি রাস্তায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করায় চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে ওই বাড়ির ইব্রাহিম খলিল মজুমদার-সহ মজুমদার বাড়ির মানুষকে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ভুক্তভোগী ইব্রাহিম খলিল মজুমদার বলেন, আমাদের বাড়ির শতবছরের চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দেয়ায় আমাদেরকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। আমরা এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
অভিযুক্ত হারুনুর রশিদ মজুমদার বলেন, আমার ক্রয়কৃত অংশে আমি রাস্তা বন্ধ করেছি। মানুষের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করা যায় কিনা প্রশ্ন করলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেননি।
হারুনুর রশিদের কাছে জমিটি বিক্রয়কারী মরহুম মাস্টার ওবায়েদ উল্লাহ মজুমদারের পুত্র কামরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, আমার বাবা দলিল দেয়ার সময় রাস্তা বাদ দিয়ে কবলা দিয়েছে, এখন সে জোরপূর্বক রাস্তা দখল করার চেষ্টা করছে।
লুধুয়া গ্রামের সমাজসেবক হাবিবুর রহমান হাবিব, রাজু মজুমদার ও আব্দুল মতিন মজুমদার বাচ্চু বলেন, হারুনুর রশিদ এ পর্যন্ত দুই বার রাস্তা বন্ধ করেছে, আমরা একবার খুলে দিয়েছি, এখন সে পুনরায় জোরপূর্বক শতবছরের চলাচলের রাস্তাটি বন্ধ করে দিয়েছে।
এ ব্যাপারে নাঙ্গলকোট থানা অফিসার ইনচার্জ শাহিনূর ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নাঙ্গলকোট প্রতিনিধি