কুমিল্লা | বঙ্গাব্দ
কুবিতে বাসে আসন দখল ঠেকাতে চালু হচ্ছে ‘বাস কার্ড’
কুবিতে বাসে আসন দখল ঠেকাতে চালু হচ্ছে ‘বাস কার্ড’
0:00
0:00

কুবিতে বাসে আসন দখল ঠেকাতে চালু হচ্ছে ‘বাস কার্ড’

ছবির ক্যাপশন:

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) পরিবহন বাসে আসন দখল ও সংরক্ষণের প্রবণতা বন্ধ এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরাতে শিগগিরই ‘বাস কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন পরিবহন পুলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদুল করিম।

পরিবহন পুলের দাবি, বাস কার্ড চালু হলে শিক্ষার্থীদের পরিচয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি একজন শিক্ষার্থীর একাধিক আসন দখল করে রাখা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন—এমন যাত্রীদের বাসে ওঠা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

সম্প্রতি কুবির পরিবহন বাসে যাত্রী উপস্থিত না থেকেও ইট, খালি বোতল, ভাঙা আয়না, মোবাইল কাভার, গাছের ডাল ও পলিথিনসহ বিভিন্ন সামগ্রী রেখে আসন ‘রিজার্ভ’ করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এতে আগে বাসে ওঠা শিক্ষার্থীরাও খালি আসনে বসার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ক্যাম্পাসে আসা অনেক শিক্ষার্থীকে আসন না পেয়ে পুরো পথ দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে নিয়মিত যাত্রীদের মধ্যে ভোগান্তি ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

এ বিষয়ে পরিবহন পুলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. মাকসুদুল করিম বলেন, “বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে উপ-উপাচার্যের সঙ্গে পরিবহন পুলের সদস্যসচিবকে নিয়ে বৈঠক করেছি। এ বিষয়ে একটি নোটিশও প্রস্তুত করা হয়েছে। নোটিশটি ডিনদের কাছে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে ডিনরা বিভাগীয় চেয়ারম্যানদের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জানানো হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা খুব শিগগিরই বাস কার্ড চালুর ব্যবস্থা করব। সামনের সপ্তাহেই বাস কার্ডের জন্য সব বিভাগে চিঠি পাঠানো হবে। শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করা হবে—মাথার ক্লিপ, মোবাইলের কাভার, ভাঙা বোতল, কাঁচি কিংবা এ ধরনের কোনো সামগ্রী দিয়ে যেন বাসের আসন দখল করে রাখা না হয়।”

পরিবহন পুলের সহকারী রেজিস্ট্রার মো. মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “শিক্ষার্থীদের পরিবহনসেবা আরও সুশৃঙ্খল করার জন্য পরিবহন কার্ড চালুর চেষ্টা করছি। কার্ড চালু হলে একজন শিক্ষার্থী অতিরিক্ত সিট দখল করে রাখতে পারবে না। বোতল, পাতা, কলম, পলিথিনসহ বিভিন্ন জিনিস রেখে সিট ধরে রাখার প্রবণতাও বন্ধ করা যাবে। একই সঙ্গে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন—এমন যাত্রীদের বাসে ওঠা নিয়ন্ত্রণেও এই উদ্যোগ কাজে দেবে।”

পরিবহন সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ও ভাড়ায় পরিচালিত মোট ২৫টি বাস রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি নীল বাস, তিনটি মিনিবাস এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) থেকে ভাড়া নেওয়া ১০টি বাস রয়েছে। প্রতিদিন এসব বাসে শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসে যাতায়াত করেন। নির্দিষ্ট সংখ্যক আসনের তুলনায় যাত্রীর চাপ বেশি হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বাসে আসন থাকা সত্ত্বেও কেউ আগে থেকে ব্যক্তিগত সামগ্রী রেখে তা দখল করে রাখলে নিয়ম মেনে আগে বাসে ওঠা শিক্ষার্থীরা ওই আসনে বসতে পারেন না। এতে যাতায়াতের সময় শারীরিক ভোগান্তির পাশাপাশি আসন নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরোধও তৈরি হয়। তাদের মতে, একজন শিক্ষার্থীর জন্য একটি আসন ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করা এবং আগে বাসে ওঠা শিক্ষার্থীকে খালি আসনে বসার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

পরিবহন পুলের আহ্বায়ক জানান, বাস কার্ড চালুর বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সঙ্গেও তাঁর কথা হয়েছে। কার্ড চালু হলে শিক্ষার্থীদের পরিচয় ও বাস ব্যবহারের বিষয়টি আরও সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। এতে আসন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে যাতায়াতের ভোগান্তিও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে কুবির বাসে শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন ব্যক্তিগত ও অপ্রাসঙ্গিক সামগ্রী রেখে আসন দখল করে রাখার অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। পরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায্যভাবে আসন ব্যবহারের সুযোগ নিশ্চিত করতে বাস কার্ড চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ