মাঠের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় গর্ত, কোথাও নরম ও অসমতল মাটি, ফুটবল মাঠের ভেতরে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকা ক্রিকেট পিচ—এমন পরিস্থিতিতেই আজ রোববার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) শুরু হচ্ছে আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬। একই সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে বহিরাগতদের নিয়মিত খেলাধুলার অভিযোগ রয়েছে। এতে খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও মাঠের ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষার্থীরা।
টুর্নামেন্ট শুরুর এক দিন আগে শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে সরেজমিনে দেখা যায়, মাঠের বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় গর্ত রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ পাশের গোলপোস্টের সামনে কয়েকটি গর্ত দেখা গেছে। গর্তগুলো বালি দিয়ে ভরাট করা হলেও বৃষ্টির কারণে ওই অংশের মাটি এখনো নরম। সেখানে পা দিলে মাটি দেবে যাচ্ছে।
মাঠের মধ্যভাগেও কয়েকটি জায়গায় নরম ও অসমতল মাটি দেখা গেছে। কোথাও কোথাও বালি দিয়ে গর্ত ভরাট করা হলেও পুরো মাঠ সমান করা হয়নি।
এ ছাড়া মাঠের পূর্ব পাশে থাকা দুটি ক্রিকেট পিচের মধ্যে একটি কর্দমাক্ত ও নষ্ট অবস্থায় পড়ে আছে। পিচটির একটি অংশ ফুটবল মাঠের ভেতরে রয়েছে। নষ্ট হয়ে যাওয়া অংশটি মাটি বা বালি দিয়ে সমান না করায় জায়গাটি অসমতল হয়ে আছে।
তবে বর্ষা মৌসুমের কারণে গর্ত ভরাটে মাটির পরিবর্তে বালি ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগ।
বিভাগটির উপপরিচালক মনিরুল আলম বলেন, “বর্ষা মৌসুমে খানাখন্দে মাটি ব্যবহার করলে তা কাদায় পরিণত হবে। তাই এ সময়ে বালি ব্যবহার করাই সবচেয়ে উত্তম। বালি সরে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী আবারও ভরাট করা হবে।”
আজ বেলা ২ টায় অর্থনীতি ও ফার্মেসি বিভাগের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। উদ্বোধনী ম্যাচের পর গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা এবং কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের দল মুখোমুখি হবে।
মাঠের বর্তমান অবস্থার জন্য রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতির পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বহিরাগতদের নিয়মিত খেলাধুলাকেও দায়ী করছেন শিক্ষার্থীরা। মাঠে বহিরাগতদের প্রবেশ ও খেলাধুলায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রতিদিনই তাঁদের মাঠে খেলতে দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ড. মো. মহিউদ্দিন বলেন, “মাঠে বহিরাগত আসে, এটা আমি জানি। তবে কে বা কারা তাদের নিয়ে আসে, সেটা আমি বলতে পারি না। আর এটা তো আমি দেখি না। দেখার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত মানুষ আছে, তাদের সঙ্গে কথা বলেন।”
শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক মনিরুল আলম বলেন, “বহিরাগতরা খেলে এটা আমিও দেখি। মাঝেমধ্যে আমাদের স্টুডেন্টরা আর বহিরাগত মিলে একসাথেই খেলে। এখন কে স্টুডেন্ট, কে বহিরাগত সবসময় তো আইডেন্টিফাই করা ডিফিকাল্ট। ওরা কীভাবে ঢোকে, ওটা তো সিকিউরিটির লোকজন দেখার কথা।”
নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বহিরাগতদের প্রবেশ বন্ধ না হওয়ায় মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষার্থীরা।
গত আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্টে ‘ম্যান অব দ্য টুর্নামেন্ট’ নির্বাচিত শিক্ষার্থী মেহেরাজ আলভি বলেন, “কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের বর্তমান অবস্থা খুবই খারাপ। বিশেষ করে মাঠের পশ্চিম পাশে বেশ কিছু বড় গর্ত রয়েছে। সেখানে বালি দেওয়া হলেও গর্তগুলো ঠিকভাবে সমান করা হয়নি। ফলে খেলতে গেলে পা ঢুকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকছে।”
তিনি বলেন, “পূর্ব পাশেও দুটি ক্রিকেট পিচের কারণে জায়গাটি অনেকটা অসমান ও গর্তযুক্ত। এমনকি সেখানে স্বাভাবিকভাবে হাঁটতেও সমস্যা হচ্ছে। এ অবস্থায় টুর্নামেন্ট শুরু করা খেলোয়াড়দের জন্য বেশ ঝুঁকিপূর্ণ।”
গর্তগুলো ভালোভাবে ভরাট করে রোলার দিয়ে সমান করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, টুর্নামেন্ট আয়োজনের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে প্রশাসনের দ্রুত মাঠ সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ওমর ফারুক বলেন, “প্রতিবছর আমাদের একটি টুর্নামেন্ট হলেও শারীরিক শিক্ষা বিভাগের মাঠের পরিচর্যা ও উন্নয়ন নিয়ে বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের বর্তমান অবস্থা খুবই শোচনীয়, যা খেলার অনুপযোগী।”
তিনি আরও বলেন, “এর মধ্যে বহিরাগতরা খালি পায়ে এসে মাঠটি আরও নষ্ট করে দিচ্ছেন। নিষেধাজ্ঞা থাকলেও প্রতিদিন তাঁদের খেলতে দেখা যায়, কিন্তু প্রশাসনের এ নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই।”
মাঠের বর্তমান অবস্থা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং ক্রীড়া খাতের বরাদ্দ কীভাবে ব্যয় করা হয়, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
চলতি অর্থবছরে ক্রীড়া খাতে মোট কত টাকা বরাদ্দ রয়েছে এবং মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কারে কত টাকা ব্যয় করা হয়—জানতে চাইলে শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক মনিরুল আলম বলেন, “আমরা চেষ্টা করতেছি মাঠের খানাখন্দগুলো সমান করে ভরাট করার, যাতে খেলোয়াড়রা ইনজুরিতে না পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কত বাজেট পেয়েছি, সেটা এই মুহূর্তে মনে নেই।”
তিনি জানান, ক্রীড়া খাতের বাজেট বিভিন্ন ইভেন্ট ও খাতে ব্যয় করা হয়। এর মধ্যে মাঠ সংস্কার, পুরস্কার, রেফারি, ডেকোরেশন এবং বিভিন্ন সরঞ্জাম কেনার ব্যয়ও রয়েছে।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিনও মাঠের বিভিন্ন অংশ পুরোপুরি সমান ও খেলার উপযোগী না হওয়া এবং নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বহিরাগতদের নিয়মিত মাঠ ব্যবহার অব্যাহত থাকায় মাঠের রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।
কুবি প্রতিনিধি