কুমিল্লায় একাধিক বিচারাধীন মামলার বাদী ও পেশাজীবী সাংবাদিক মওদুদ আবদুল্লাহ প্রকাশ শুভ্র নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। একই সঙ্গে কোতোয়ালী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জের দৃষ্টি আকর্ষণ করে আইনগত সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
আবেদনে মওদুদ আবদুল্লাহ উল্লেখ করেন, তিনি কুমিল্লা নগরীর পুরাতন চৌধুরীপাড়ার বাসিন্দা এবং জাতীয় অনলাইন ও প্রকাশিত পত্রিকার পেশাদার সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দাবি করেন, বিচারাধীন মামলার আসামি ও তাদের সহযোগীরা বিভিন্ন সময়ে তার কাছে চাঁদা দাবি, ছিনতাই, অপহরণের চেষ্টা, প্রাণনাশের হুমকি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার, সাইবার হয়রানি এবং পেশাগত কাজে বাধা সৃষ্টি করে আসছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তাকে অনুসরণ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে এবং তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি ও ক্ষতিসাধনের চেষ্টা চালাচ্ছে। বিষয়গুলো সম্পর্কে আদালতকে অবহিত করা হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আবেদন অনুযায়ী, তার দায়ের করা অন্তত তিনটি মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের একটি মামলায় জখম, চাঁদাবাজি ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। ২০২৫ সালের আরেকটি মামলায় দস্যুতার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া ২০২৬ সালের একটি সিআর মামলায় চাঁদাবাজি, অপহরণ, জালিয়াতি, মানহানি ও হত্যাচেষ্টাসহ একাধিক অভিযোগে মামলা চলমান রয়েছে।
এ ছাড়া কোতোয়ালী মডেল থানায় দায়ের করা কয়েকটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও অভিযোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। এসব অভিযোগে ফেসবুক আইডি ও পেজ ব্যবহার করে অপপ্রচার, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার, মোবাইল নম্বর নিয়ন্ত্রণ, আইডি হ্যাকিং, সাইবার প্রতারণা, মামলা প্রত্যাহারের জন্য হুমকি এবং সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হয়েছে।
আবেদনে তিনি সর্বশেষ একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে বলেন, গত ২২ জুলাই কুমিল্লা সদর রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে দুটি নম্বরবিহীন মোটরসাইকেল ও একটি মাইক্রোবাস তার অটোরিকশার গতিরোধ করে। এ সময় কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। এ ঘটনায় তিনি ২৬ জুলাই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানান।
মওদুদ আবদুল্লাহ তার আবেদনপত্রের অনুলিপি জেলা প্রশাসক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, র্যাব-১১, ডিএফআই, এনএসআই, জেলা তথ্য অফিস, কুমিল্লা প্রেস ক্লাব এবং কুমিল্লা আইনজীবী সমিতিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে পাঠিয়েছেন।
এ বিষয়ে কুমিল্লা কোতোয়ালী মডেল থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, আবেদন ও অভিযোগগুলো আইনানুগভাবে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক