কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রক্তক্ষয়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যাত্রার প্রথম দিনের স্মরণে প্রথম প্রহরে মোমবাতি প্রজ্বলন ছাত্রশক্তি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এসময় তারা সকল আহত ও আন্দোলনের অংশগ্রহণকারী, সংগ্রামীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে ও দ্রোহের গান পরিবেশন করেন।
শনিবার(৪জুলাই) রাত ১২ টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই আয়োজন করেন সংগঠনটির নেতাকর্মীসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম ও জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা নাবিদ নওরোজ।
তরিকুল ইসলাম বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থানের উদ্যোগ এসেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কিন্তু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দিকে ধাবিত হওয়ার সাহস যুগিয়েছিল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা চৌঠা জুলাই আজ থেকে দুই বছর আগে রাজপথে নেমেছিল। কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে।
এছাড়াও তিনি আরও বলেন ১১ই জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় সর্বপ্রথম পুলিশের গুলি চালানো হয়। এতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হয়েছে। পুলিশ সেখানে গুলি চালিয়েছে। এরফলে আমাদের এই আন্দোলনের বেগ যেন আরও দ্বিগুণ গতিতে পেয়েছে।
সেই ১১ই জুলাই পরবর্তী সময়ে কিন্তু আন্দোলনের তীব্রতা পায়। বাংলা ব্লকের সহ বিভিন্ন ব্লকের কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা যখন সাহস যুগিয়েছে যে তারা পুলিশ যখন গুলি চালিয়েছে, তখন কিন্তু তারা দমে যায়নি।
এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টির(এনসিপি) নেতা নাবিদ নওরোজ বলেন, "জুলাই গণঅভ্যুত্থান যে শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক একটি আন্দোলন ছিল না এবং সারা দেশের ছাত্র-জনতাকে এটি সংযুক্ত করতে পেরেছিল। এর মধ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বড় অবদান আছে । ৪ঠা জুলাই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেমেয়েরা রাজপথে নেমেছিল। কোটবাড়ি কোটবাড়ি বিশ্বরোড তখন ব্লকড করে দিয়েছিলেন এবং পুরো আন্দোলন জুড়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ভূমিকা ছিল, বিশেষ করে এগারো জুলাইকে স্মরণ করতেই হয়। কুমিল্লা প্রতিরোধ দিবস হিসেবে যেটি ইতিমধ্যেই ঘোষিত হয়েছে । জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অনস্বীকার্য।"
কুবি প্রতিনিধি