কুমিল্লা নগরীর নোয়াপাড়া এলাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ঐতিহ্যবাহী পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব। শনিবার (১৩ জুন) স্থানীয়দের উদ্যোগে আয়োজিত এ ব্যতিক্রমধর্মী উৎসবে প্রায় ২২০ জন মৎস্যশিকারী অংশ নেন। উৎসবকে ঘিরে এলাকাজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
দুপুরে শুরু হওয়া এ আয়োজনে অংশগ্রহণকারীরা পলো নিয়ে পুকুরে নেমে মাছ শিকার করেন। মাছ ধরার পাশাপাশি উৎসব দেখতে ভিড় করেন বিপুলসংখ্যক দর্শনার্থী। বিভিন্ন বয়সী মানুষ, বিশেষ করে শিশু-কিশোররা, গ্রামীণ বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই মাছ ধরার পদ্ধতি কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
মৎস্যশিকারী নজির আহমেদ জানান, কুমিল্লায় পলো দিয়ে মাছ ধরার পাঁচটি দল রয়েছে। তারা বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে মাছ শিকারে অংশ নেন। তিনি বলেন, আজ এখানে ২২০ জন মাছ শিকারি অংশ নিয়েছেন। জনপ্রতি টিকিট ছিল ১ হাজার ৫০০ টাকা। আমি প্রায় ১০ কেজি মাছ ধরতে পেরেছি।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. বাশার বলেন, মাছ ধরার চেয়ে এখানে আনন্দটাই বেশি। আমরা মাছে-ভাতে বাঙালি। নতুন প্রজন্মকে আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত করার জন্য এ ধরনের আয়োজন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
একসময় বাংলার গ্রামাঞ্চলে পলো দিয়ে মাছ ধরা ছিল একটি জনপ্রিয় লোকজ ঐতিহ্য। বর্ষা মৌসুমে খাল-বিল, জলাভূমি ও ডোবা-নালায় দলবদ্ধভাবে পলো নিয়ে মাছ ধরতে নামতেন গ্রামের মানুষ। এটি শুধু জীবিকার অংশ ছিল না, বরং সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং গ্রামীণ বিনোদনেরও অন্যতম অনুষঙ্গ ছিল। আধুনিক সময়ে এ ঐতিহ্য অনেকটাই বিলুপ্তির পথে। ফলে এমন আয়োজন পুরোনো সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উৎসবটির আয়োজন করেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২১ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর কাজী মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখার উদ্দেশ্যেই এ আয়োজন। বর্তমান প্রজন্মকে আমাদের শেকড়ের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই। ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
স্থানীয়দের মতে, পলো দিয়ে মাছ ধরা উৎসব শুধু বিনোদনের আয়োজন নয়, বরং হারিয়ে যেতে বসা বাংলার লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হলে নতুন প্রজন্ম নিজেদের ঐতিহ্য সম্পর্কে আরও সচেতন হবে এবং গ্রামীণ সংস্কৃতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
নেকবর হোসেন