কুমিল্লার হোমনা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় দলিল লেখক ও ছাত্রদল নেতা সেলিম মাস্টার।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সেলিম মাস্টার অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হোমনা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কার্যক্রম একটি বিশেষ চক্রের নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হতো। ওই সময়ে দলিল নিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তার পোস্টে উল্লেখ করা হয়, যে দলিলের সরকারি ফি ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা হওয়ার কথা, সেগুলোর জন্য অনেক ক্ষেত্রে ৩,৪০০ থেকে ৩,৬০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হতো। অতিরিক্ত আদায়কৃত অর্থ একটি প্রভাবশালী মহলের পকেটে যেত বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সেলিম মাস্টার আরও বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন ক্ষেত্রে পরিবর্তন এলেও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অতীতে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে যাদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তারা এখনো প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন বলে তার দাবি।
তিনি হোমনা-তিতাসের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানান তিনি।
এদিকে হোমনা দলিল লেখক সমিতির নেতৃত্ব নিয়েও নানা প্রশ্ন ও আলোচনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয় দলিল লেখক, রাজনৈতিক কর্মী এবং সচেতন নাগরিকদের একাংশের অভিযোগ, সমিতির বর্তমান সভাপতি মিজান প্রায় ১৭ বছর ধরে প্রভাব বিস্তার করে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায়ও তিনি কীভাবে পুনরায় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন, সে বিষয়ে সংগঠনের ভেতরে ও বাইরে প্রশ্ন উঠেছে।
একই সঙ্গে সমিতির সাধারণ সম্পাদক কবির হোসেনকে নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা রয়েছে। কয়েকজন দলিল লেখকের দাবি, অতীতে রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন, সে বিষয়ে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা প্রয়োজন।
স্থানীয় দলিল লেখক ও সচেতন নাগরিকদের মতে, হোমনা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। তারা আশা করছেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এবং এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে।
( উল্লিখিত অভিযোগগুলো অভিযোগকারীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।)
মোঃ জয়নাল সরকার,হোমনা