গৌরবময় পদোন্নতির আনন্দ আর প্রিয় শিক্ষকদের ক্যাম্পাস ছাড়ার বেদনাবিধুর এক মিশ্র অনুভূতির সাক্ষী হলো কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট। প্রতিষ্ঠানের ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের দুই দিকপাল ও জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের উপাধ্যক্ষ পদে পদোন্নতি জনিত বদলি উপলক্ষে গতকাল ( বুধবার) আয়োজন করা হয় এক বর্ণাঢ্য ও আবেগঘন বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টের চীফ ইন্সট্রাক্টর জনাব মোহাম্মদ আলী আজ্জম এবং জনাব মো: সাখাওয়াত হাসান উপাধ্যক্ষ হিসেবে পদোন্নতি লাভ করেছেন। তাঁদের এই গৌরবোজ্জ্বল অর্জনকে উদযাপন করতে এবং একই সাথে ক্যাম্পাস থেকে বিদায়ী শুভেচ্ছা জানাতে ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের উদ্যোগে এই বিদায় উৎসবের আয়োজন করা হয়।
কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের শুরুতেই পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মাধ্যমে মূল পর্বের সূচনা ঘটে। এরপরই শুরু হয় স্মৃতিচারণ। বিদায়ী শিক্ষকদের সান্নিধ্য পাওয়া শিক্ষার্থীরা একে একে মঞ্চে এসে তাঁদের অনুভূতি ব্যক্ত করতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি। ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টের ৩য় পর্বের শিক্ষার্থী খালিদ বিন ইমরান অশ্রুসিক্ত চোখে মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলেন, “আপনারা শুধু আমাদের ল্যাব আর ক্লাসরুমের শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন জীবনের সেরা অভিভাবক। আপনাদের দেওয়া দিকনির্দেশনা আমাদের সারাজীবন পথ দেখাবে।” খালিদসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীদের এমন অকপটে বলা আবেগপ্রবণ বক্তব্য শুনে উপস্থিত বিদায়ী শিক্ষক ও অন্যান্য অতিথিরাও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সংবর্ধিত অতিথি জনাব মোহাম্মদ আলী আজ্জম এবং জনাব মো: সাখাওয়াত হাসান তাঁদের বিদায়ী বক্তব্যে দীর্ঘদিনের কর্মস্থলের স্মৃতি রোমন্থন করেন। পলিটেকনিকের সাথে জড়িয়ে থাকা আবেগ এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁদের ভালোবাসার কথা বলতে গিয়ে স্যারদের কণ্ঠও বাষ্পরুদ্ধ হয়ে আসে। তাঁরা শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “তোমাদের হাত ধরেই আগামী দিনের সমৃদ্ধ ও স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। পড়ালেখার মান উন্নয়ন এবং নিজেদের যোগ্য প্রকৌশলী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে তাত্ত্বিক শিক্ষার পাশাপাশি ল্যাবের প্রতিটি কাজের নিখুঁত ব্যবহারিক জ্ঞান অর্জন করতে হবে। সময়কে মূল্যায়ন করতে শিখলে ভবিষ্যৎ এমনিতেই উজ্জ্বল হবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজি বিভাগের সম্মানীয় বিভাগীয় প্রধান জনাব মোহাম্মদ বশির আহামদ। তিনি বিদায়ী সহকর্মীদের দীর্ঘ কর্মজীবনের নিষ্ঠা ও দক্ষতার প্রশংসা করেন এবং তাঁদের নতুন দায়িত্বের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে আবেগঘন বক্তব্য পেশ করেন।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মাননীয় অধ্যক্ষ জনাব মুহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম চৌধুরী তাঁর সমাপনী বক্তব্যে বলেন, “আজ আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের দিন যে আমাদের দুজন দক্ষ শিক্ষক উপাধ্যক্ষ হিসেবে আরও বড় পরিসরে শিক্ষাখাতে অবদান রাখতে যাচ্ছেন। তাঁদের এই পদোন্নতি পুরো কুমিল্লা পলিটেকনিক পরিবারের জন্য এক বড় স্বীকৃতি।” তিনি শিক্ষার্থীদের শিক্ষকদের আদর্শ ও শৃঙ্খলা বজায় রেখে জীবন গড়ার আহ্বান জানান।
বক্তব্য পর্বের সমাপনী শেষে শুরু হয় উপহার প্রদানের পালা। ইলেকট্রিক্যাল টেকনোলজির বিভিন্ন পর্বের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে মঞ্চে এসে বিদায়ী শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট, ফুলের তোড়া এবং নানা রকম ভালোবাসার স্মারক উপহার তুলে দেন। ছবি ও ফ্রেমবন্দী স্মৃতির হাতবদলের মাধ্যমে এক আনন্দঘন ও স্মৃতিমধুর আবহ তৈরি হয় পুরো সেমিনার কক্ষে।
পরিশেষে, বিদায়ী শিক্ষকদের দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য এবং শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনার মধ্য দিয়ে কুমিল্লা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ইতিহাসের পাতায় আরও একটি স্মরণীয় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
খালিদ বিন ইমরান