কুমিল্লা | বঙ্গাব্দ

ফোনে ডেকে নিয়ে ব্যবসায়ীকে হ'ত্যা'র অভিযোগ

  • প্রকাশের তারিখ : 22-এপ্রিল-2026 ইং
ছবির ক্যাপশন:

কুমিল্লার দেবিদ্বারে জমি বিক্রির লেনদেনের টাকা নি‌য়ে বিরোধের জেরে জহিরুল ইসলাম নামে এক জমি ব্যবসায়ীকে বাড়ি থেকে মুঠোফোন কল করে ডেকে নিয়ে মারধর করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। 

মঙ্গলবার দিবাগত-রাত দেবিদ্বার পৌর এলাকার বালিবাড়ী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত জহিরুল ইসলাম (৫০) মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে। বর্তমানে তিনি দেবিদ্বার পৌর এলাকার মোহনা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা। জমি কেনাবেচার ব্যবসা করতেন।

​নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি কেনাবেচার পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মঙ্গলবার বিকেলে বালিবাড়ী গ্রামের মোবারক ও শাহীনসহ কয়েকজন যুবক জহিরুল ইসলামকে তার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। প্রথমে তাকে ভিরাল্লা বাস স্টেশন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় সন্ধ্যায় জহিরুলকে মোবারকের বালিবাড়ি গ্রা‌মের বাড়িতে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে রাত ১০টার দিকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে তাকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক জহিরুলকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় মরদেহ নিয়ে আসা তিন লোক পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।

​নিহতের স্ত্রী মাহফুজা আক্তার বলেন, বিকেলে মোবাইল ফোনে কল পেয়ে তার স্বামী বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। রাতে হাসপাতাল থেকে ফোন পেয়ে তিনি সেখানে গিয়ে স্বামীর মরদেহ দেখতে পান। জমি বিক্রির লেনদেন নিয়ে তাহার সাথে দ্বন্দ্ব ছিল বলে জানান তিনি। এসময় তিনি স্বামী হত্যার বিচার দাবী করেন।

​এ নিয়ে স্হানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, নিহত জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকায় জাল দলিল ও জমি কেনাবেচায় প্রতারণার একাধিক অভিযোগ ছিল। একই জমি একাধিক ব্যক্তির নিকট বিক্রিরও অভিযোগ রয়েছে। একাধিক ব্যক্তিরা তাকে প্রতিনিয়ত মোহনা আবাসিক এলাকায় খুঁজতে আসেন। প্রায়ই সে পলাতক থাকত। 
সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ আয়োজিত একটি নাগরিক সমাবেশেও তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছিলেন। সে সময় সংসদ সদস্য অভিযুক্ত জহিরুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশনা দিয়েছিলেন।

​এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ