কুমিল্লার লাকসামে খালের অবৈধ বাঁধ অপসারণ করে প্রায় আড়াইশো বিঘা কৃষিজমি পুনরায় চাষাবাদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। শনিবার উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের নাড়িদিয়া এলাকার আঙ্গারিয়া-নাড়িয়া খাল থেকে এ বাঁধ অপসারণ করেন কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মহল খালের তিন পাশে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছিল। এতে প্রায় আড়াইশো বিঘা জমির স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সহস্রাধিক কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েন। একসময় তিন ফসলি জমি কমে এক ফসলিতে নেমে আসে, ফলে ধান উৎপাদন কমে গিয়ে অনেক কৃষক ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন।
খালের বাঁধ অপসারণের ফলে জমিগুলোতে পুনরায় পানি চলাচল স্বাভাবিক হবে এবং কৃষকরা আগের মতো চাষাবাদ করতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে একই দিনে বিকেলে মনোহরগঞ্জ উপজেলার মানিকমূড়া এলাকা থেকে ভোগই, কাচি ও নদনা খাল পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য। স্থানীয়দের মতে, একসময় প্রবাহমান এসব খাল শুকনো মৌসুমে সেচ এবং বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন পুনঃখনন না হওয়ায় দখল ও দূষণে খালগুলো প্রায় ভরাট হয়ে পড়ে।
সংসদ সদস্য আবুল কালাম বলেন, খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এক ফসলি জমি দুই ফসলি এবং দুই ফসলি জমি তিন ফসলি জমিতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে। এতে এলাকার কৃষকরা আরও স্বাবলম্বী হবেন।
তিনি আরও জানান, খাল-নদী দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।
অফিস রিপোর্টার