কুমিল্লা | বঙ্গাব্দ
পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং দু'র্ঘ'ট'না গেটম্যানদের ঘরে মা'দ'কে'র আলামত
পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং দু'র্ঘ'ট'না গেটম্যানদের ঘরে মা'দ'কে'র...
0:00
0:00

পদুয়ার বাজার রেলক্রসিং দু'র্ঘ'ট'না গেটম্যানদের ঘরে মা'দ'কে'র আলামত

ছবির ক্যাপশন:

কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও বাসের সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে দায়িত্বরত দুই গেটম্যানকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, বরখাস্ত হওয়া ওই দুই গেটম্যান নিয়মিত গাঁজা সেবন করতেন এবং ঘটনার রাতেও তারা বহিরাগতদের নিয়ে নেশায় মত্ত ছিলেন।

গত শনিবার (২১ মার্চ) ঈদের দিন রাতের বিভীষিকাময় এ দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই ঝরে যায় ১২টি প্রাণ। নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে। স্বজন হারিয়ে শোকস্তব্ধ পুরো এলাকা।

দুর্ঘটনার পর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি। পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বরত গেটম্যানদের গাফিলতিকেই এ দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।এদিকে, গেটম্যানদের কক্ষে গিয়ে মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবনের বিভিন্ন আলামত পাওয়া গেছে। ইয়াবা সেবনের সরঞ্জাম এবং গাঁজা সেবনের উপকরণ বিছানার পাশেই পড়ে থাকতে দেখা গেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, গেটম্যানদের জন্য নির্মিত সরকারি কক্ষগুলোতে নেই কোনো নিয়মিত মনিটরিং। এই সুযোগে সেখানে প্রায়ই বসে নেশার আসর। ঘটনার দিন রাতেও গেইটম্যান মেহেদী ও হেলাল বহিরাগতদের নিয়ে গাঁজা সেবন করছিলেন বলে দাবি করেন এলাকাবাসী।স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এ রেলক্রসিংয়ে অব্যবস্থাপনা চলছে। দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের অবহেলার কারণেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন কুমিল্লা রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার শেখ আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, “গেটম্যানদের ঘরে কোনো ধরনের নেশা করা হয় না। দুর্ঘটনার বিষয়টি প্রকৌশল বিভাগ ভালো বলতে পারবে। কারণ এটি তাদের আওতাধীন।”এ বিষয়ে কুমিল্লা রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ইনচার্জ ফরহাদ সরকার বলেন, “গেটম্যানদের ঘরে যদি মাদক সেবন হয়, সেটি প্রথমে দেখবে স্টেশন মাস্টার। কারণ তারা তো আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে সেবন করবে না। তবে যদি অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”এদিকে, ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তিনটি তদন্ত কমিটিকে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তদন্ত প্রতিবেদনেই উঠে আসবে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ।কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানান, তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। তদন্ত চলমান রয়েছে এবং জেলা প্রশাসন বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তদন্তে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ