কুমিল্লা | বঙ্গাব্দ
দুই শিশুর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে কুমিল্লায় গৃহবধূর মৃ/ত্যু নিয়ে রহস্য
দুই শিশুর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে কুমিল্লায় গৃহবধূর মৃ/ত্যু নিয়ে রহ...
0:00
0:00

দুই শিশুর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে কুমিল্লায় গৃহবধূর মৃ/ত্যু নিয়ে রহস্য

ছবির ক্যাপশন:

কুমিল্লা নগরীর ১৪ নং ওয়ার্ডের ২য় মুরাদপুর দক্ষিণ পাড়া এলাকায় বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটে যায় এক মর্মান্তিক ঘটনা। গৃহবধূ ফারজানা নিজ ওড়নায় ফাঁস দিয়ে প্রাণ হারান বলে দাবি করা হলেও তার পরিবার অভিযোগ করছে, তাকে হত্যা করে সিলিং ফ্যানে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।  

নিহতের স্বামী মেহেদী হাসান জানান, অফিস থেকে দেরি করে বাড়ি ফেরায় স্ত্রী ফারজানার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ফারজানা তাকে মারধর করলে তিনি একটি থাপ্পড় দিয়ে শোবার ঘরে চলে যান। এরপর ফারজানা বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে স্থানীয়রা দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে দেখা যায় ফারজানা ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আছে।  

অন্যদিকে নিহতের পিতা দুলাল মিয়া অভিযোগ করেন, মেহেদী পরকীয়া ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত। এসব নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল। তার দাবি, মেয়েকে হত্যা করে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।  

মাত্র পাঁচ বছরের মিরাজ এবং তিন মাস বয়সী শিশু ফারহানকে নিয়ে এই মধ্যবিত্ত পরিবারে নেমে এসেছে অন্ধকার। মায়ের মৃত্যুতে দুই শিশুর ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় ঘেরা হয়ে পড়েছে। পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন, আর স্থানীয়রা হতবাক হয়ে দেখছেন এক তরুণী মায়ের অকাল মৃত্যু।  

ফারজানার বাড়ি ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সাহেবাবাদ ইউনিয়নের জিলুন গ্রামে। অভিযুক্ত স্বামী মেহেদী হাসান দক্ষিণ দূর্গাপুর ইউনিয়নের আড়াইওরা গ্রামের জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে।  

খবর পেয়ে কোতয়ালি থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। নিহতের স্বামীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পুলিশের এসআই ইবনে মহিউদ্দিন শরিফ বলেন, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করা সম্ভব নয়।  

এই মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, দুটি শিশুর ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে। মধ্যবিত্ত জীবনের সংগ্রামের ভেতর হঠাৎ এমন মৃত্যু সমাজে গভীর ক্ষত তৈরি করেছে।

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ