কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে প্রেম করে সদ্য বিবাহিত স্ত্রী বর্ষা বেগম-কে (২৪) পানি'র সাথে বিষ মিশিয়ে পান করায় স্বামী, পরে ওই বতলের বিষমিশ্রিত বাকি পানি স্বামী মোহাম্মদ নয়ন (২১) নিজে পান করেন। এতে ঘটনাস্থলে স্বামী নয়নের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার সকালে নাঙ্গলকোট পৌরসভার হরিপুর উত্তর পাড়া ঢালাই রাস্তার পাশে তারা বিষপান করেন। নয়ন নাঙ্গলকোট উপজেলার হেসাখাল ইউনিয়নের কুরকুটা গ্রামের কলিম উল্লার ছেলে। বর্ষা বেগমের পিতার বাড়ি সিলেট জেলার হবিগঞ্জ উপজেলায়। বিষপান করে রাস্তার পাশে চটপট করতে দেখে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক নয়নকে মৃত ঘোষণা করেন ও স্ত্রী বর্ষা'র অবস্থা আশঙ্কা জনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বর্ষা বলেন, নয়ন বক পাখি মারার বিষ পানিতে মিশিয়ে প্রথমে আমাকে দেয় পরে সে নিজেও পান করে। আমি পানি পান করার আগে বুঝিনি কি মিশিয়েছে, পান করার পর সে বলেছে পানিতে বক মারার বিষ মিশিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোবাইল ফোনে রং নাম্বারে মাত্র তিন দিনের প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে ১৫ দিন পূর্বে ট্রাক হেলপার নয়ন বর্ষা-কে বিয়ে করে বাড়িতে নিয়ে আসে। তবে কী কারণে বিষপান করেছে তা জানা যায়নি।
নাঙ্গলকোট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডাক্তার মোহাম্মদ শাহীন বলেন, বিষপানের পর হাসপাতালে আনা হলে বর্ষাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে আনার পর নয়ন জীবিত ছিলেন না। পরে বর্ষার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
নাঙ্গলকোট থানা অফিসার ইনচার্জ শাহীনূর ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী-স্ত্রী দুজন বিষপান করেছে। এতে নয়ন হোসেনের মৃত্যু হয়েছে এবং তাঁর স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
সাফায়েত উল্লাহ মিয়াজী, নাঙ্গলকোট