কুমিল্লা কোতোয়ালি থানা এলাকায় সরকারি মালামাল চুরির অভিযোগে আটক এক ব্যক্তিকে উদ্ধারকৃত আলামতসহ ঘটনাস্থলে পেয়েও গ্রেপ্তার না করে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রখিল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বিল্লাল মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।ঘटनাটি ঘটেছে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দিন পাস্তবী ইউনিয়নের সাহাপুর জাল্লাপাড়া এলাকায়, গোমতী নদীর তীরবর্তী সরকারি খাম্বা লাইট সংলগ্ন স্থানে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনের বেলা সরকারি খাম্বা লাইট খুঁড়ে তোলার সময় এলাকাবাসী এক ব্যক্তিকে হাতে-নাতে ধরে ফেলে। পরে তাকে গণধোলাই দিয়ে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করা হয়। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা অধীন ছাত্রখিল পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বিল্লাল মিয়া ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।অভিযোগ রয়েছে, অভিযুক্তের হাত থেকে সরকারি মালামাল উদ্ধার করা হলেও তাকে আটক না করে উল্টো এলাকাবাসীকে নির্দেশ দেন হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করিয়ে থানায় এনে মামলা দিতে। এ সময় স্থানীয়রা জানান, আটক ব্যক্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়াসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া পুলিশের দায়িত্ব। তবে এসআই বিল্লাল বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে সঙ্গীয় ফোর্সসহ ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে এসআই বিল্লাল মিয়া প্রতিবেদককে বলেন, “আমি তো মামলা দিতে পারি না। স্থানীয়দের বলেছি হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করিয়ে থানায় এনে মামলা দিতে।” পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি “কথা পেঁচাবেন না” বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।একজন মানবাধিকার কর্মী এ ঘটনায় বলেন, কোনো অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আলামতসহ পাওয়া গেলে তাকে হেফাজতে নেওয়া এবং আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা পুলিশের দায়িত্ব। একইসঙ্গে গণপিটুনির শিকার ব্যক্তির নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করাও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্তব্য। ঘটনাস্থল ত্যাগ করা দায়িত্বে অবহেলার শামিল এবং বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি রাখে।তিনি আরও বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে আলামত উদ্ধার করলে নিজ উদ্যোগে মামলা রুজু করা বাধ্যতামূলক। অন্যথায় আইন প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সচেতন মহল মনে করছে, বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
নিজস্ব প্রতিবেদক