অন্তবর্তীকালীন সরকার একটি অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিলেও কুমিল্লার মুরাদনগরে চলছে প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব আচরণ। মুরাদনগর ও বাঙ্গরা থানার সার্কেল অফিসার, মুরাদনগর থানার ওসি, বাঙ্গরা থানার ওসি কার্যক্রম পরিচালনা করেন জামায়াতে ইসলামীর নির্দেশনায়।
বিতর্কিত উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়া শপথের পর থেকেই কুমিল্লা (৩) বিএনপির ঘাটি খ্যাত মুরাদনগরে বিএনপি নিধনে প্রশাসনকে ব্যবহার করেছে। বিএনপি নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে জেলে দিয়েছেন। ক্ষমতার পুরো সময় জুড়ে মুরাদনগরে বিএনপি নেতা কর্মীদের হয়রানি করাই ছিল তার প্রধান কাজ।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার একদিন পূর্বে ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টা আসিফ ও মাহফুজ পদত্যাগ করলেও ২ ডিসেম্বর উপদেষ্টা থাকাকালীন সারাদেশে ওসি রদবদল করা হয়।
ইতিপূর্বে মুরাদনগর ও বাঙ্গরা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপারও নিজের পছন্দমত দেন আসিফ। ২ ডিসেম্বর লটারির অযুহাতে আওয়ামী লীগের আমলে নিয়োগ প্রাপ্ত ওসিকে মুরাদনগরে বদলি করেন আসিফ মাহমুদ সজিব ভূইয়া।
সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ পদত্যাগ করলেও তার পছন্দের মদদপুষ্ট ওসিদ্বয় এবং সহকারী পুলিশ সুপার আসিফের নির্দেশনায় মুরাদনগর জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের দিকনির্দেশনায় প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা প্রক্যাশে ঘুরে বেড়ালেও জামায়াতের পরামর্শে তাদেরকে গ্রেফতার করে না পুলিশ। অন্যদিকে গত ফ্যাসিস্ট আমলের মতই সাধারণ মানুষদের হয়রানি করছে পুলিশ।
বিশেষ করে জুলাই আগষ্ট আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের উপর হামলাকারী এবং বিগত আওয়ামী লীগের আমলে মানুষের উপর নির্যাতনকারী আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা যদি জামায়াতে ইসলামীর সাথে সমর্থন দেয় তাদের গ্রেফতার করে না পুলিশ। অন্যদিকে সাধারণ আওয়ামী লীগের সমর্থকও যদি জামায়াতে ইসলামীকে ভোট দিতে রাজি না হয় তাদের গ্রেফতার করছে পুলিশ।
এমতবস্থায় এই প্রশাসন দিয়ে মুরাদনগরে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয় বলে মনে করেন মুরাদনগরের মানুষ।
এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মহিউদ্দিন অঞ্জন বলেন- আমরা ৫ আগষ্টের পরবর্তী মুরাদনগরের চেয়েছিলাম নিরপেক্ষ প্রশাসন কিন্তুু দূর্ভাগ্যবশত আমাদের মুরাদনগরে উপদেষ্টা আসিফ তার মদদপুষ্ট ওসিদ্বয় নিয়োগ দিয়ে ফ্যাসিষ্টের চরিত্রই বহাল রাখে। দলদাস ওসিদ্বয় দিয়ে মুরাদনগরে সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়।
সম্পাদনায়
আল-আমিন কিবরিয়া
কুমিল্লা গেজেট
নিজস্ব প্রতিবেদক