কুমিল্লা | বঙ্গাব্দ

বুড়িচং সরকারি মৎস্য হ্যাচারী যেন ভূতুড়ে বাড়ি

  • প্রকাশের তারিখ : 19-অক্টোবর-2025 ইং
ছবির ক্যাপশন:

মোঃ আবদুল্লাহ, বুড়িচং।।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মৎস্যচাষীদের পোনা সরবরাহের জন্য ৩.৩৩ হেক্টর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত সরকারি মৎস্য হ্যাচারীটি এখন কার্যত অচল অবস্থায়। ৮টি পুকুর ও ১.০৪ হেক্টর পোনা উৎপাদনের জমি থাকা সত্ত্বেও এখানে দীর্ঘদিন ধরে কোনো বাস্তবিক উৎপাদন কার্যক্রম নেই—সব কিছুই চলছে কাগজে-কলমে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খামার ব্যবস্থাপক শামছি আরা ফেরদৌসী দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হ্যাচারীটি অচল হয়ে পড়ে। পুকুরগুলো ফাঁকা, পোনা উৎপাদনের হাউজে দেখা যায় রান্নার সরঞ্জামাদি। উৎপাদনের কোনো দৃশ্যমান কার্যক্রম নেই। মাঝে মাঝে শুধুমাত্র বিশেষ দিবস বা মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে অন্য জায়গা থেকে পোনা কিনে এনে বিতরণ করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্যবস্থাপকের অফিসটি প্রায় পরিত্যক্ত—এক পাশে বিছানা, অন্য পাশে চেয়ার-টেবিল। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বছরের পর বছর শুধু কাগজে উৎপাদন দেখিয়ে কোটি টাকার হিসাব তৈরি করা হচ্ছে।

অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২২–২৩ অর্থবছরে ২ লাখ ৯০ হাজার পোনা উৎপাদন ও বিক্রয়ের দেখানো হয়েছে, আয় ৩ লক্ষ ৯৬ হাজার ৮০০ টাকা।

২০২৩–২৪ অর্থবছরে ২ লাখ ৯৩ হাজার পোনা বিক্রয় দেখানো হয়েছে, আয় ৪ লক্ষ ২ হাজার ১০০ টাকা।

২০২৪–২৫ অর্থবছরে ৮৬৪.৬০ কেজি পোনা বিক্রয়ের দাবি করা হয়েছে, আয় ৪ লক্ষ ৬ হাজার ৩০০ টাকা।


স্থানীয় বাসিন্দা আরিফুল ইসলাম মাহাদী বলেন, “এখানে কোনো পোনা উৎপাদন হয় না। কাগজে দেখানো হয় আর বাইরে থেকে পোনা কিনে বিতরণ করা হয়। আমি তাদের কাছ থেকে পোনা নিয়েছিলাম—যার মধ্যে বড় মাছও ছিল। আমার পুকুরে ছাড়ার পর অনেক মাছ মরে যায়।”

খামার ব্যবস্থাপক শামছি আরা ফেরদৌসী জানান, “বিগত দুই অর্থবছর জনবল সংকট ছিল। তাই অন্য উপজেলা থেকে জনবল এনে উৎপাদন করেছি। এখন জনবল আছে, নিয়মিত উৎপাদন চলছে। কার্যালয়টি পরিত্যক্ত ঘোষিত হওয়ায় গার্ডের সেডেই অফিস করতে হচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি ও বদলির আবেদন করেছি।”

স্থানীয়দের দাবি—সরকারি অর্থে গড়া এই হ্যাচারী যেন নামমাত্র প্রতিষ্ঠান না থেকে কার্যকর হয়, সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া জরুরি।

কমেন্ট বক্স
প্রতিবেদকের তথ্য
ডেস্ক নিউজ

ডেস্ক নিউজ